logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo
star Bookmark: Tag Tag Tag Tag Tag
Bangladesh

৮ পথশিশুর বিশ্বকাপ স্বপ্ন পূরণে বাধা পাসপোর্ট!

লিডোর প্রতিষ্ঠাতা ফরহাদ হোসেনের (মাঝে) সঙ্গে বিশ্বকাপে খেলার জন্য মনোনীত শিশুরামাশরাফি-সাকিবরা যখন বিশ্বকাপের সেরা কম্বিনেশন খোঁজার চেষ্টায় ব্যস্ত, ঠিক তখন বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণের জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে এমন ৮ জন, পৃথিবী যাদের চেনে পথশিশু হিসেবে। কিন্তু তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন আপাতত ফিকে। স্বপ্নটা পূরণ হতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও পাসপোর্ট অফিস একটু সাহায্যের হাত বাড়ালেই।

বলা হচ্ছে এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (লিডো) ৮ পথশিশুর কথা। তারা আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে ৮ মে পর্যন্ত লন্ডনে অনুষ্ঠেয় পথশিশুদের বিশ্বকাপে খেলার জন্য মনোনীত হয়েছে। কিন্তু তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাসপোর্ট।

আবুল কাশেম, মোহাম্মদ রুবেল, রাসেল ইসলাম রুমেল, নিজাম হোসেন, স্বপ্না আক্তার, সানিয়া মির্জা, জেসমিন আক্তার ও আরজু রহমানের বাবা-মা নেই। লাল-সবুজ পতাকা জড়িয়ে বিদেশের মাটিতে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন তাদের। কিন্তু বৈধ অভিভাবক না থাকার কারণে প্রথমবারের মতো আয়োজিত স্ট্রিট চিলড্রেন ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত হয়েও তাদের লন্ডন যাওয়া সংশয়ের মুখে।

আইসিসি থেকে আমন্ত্রণপত্র পাওয়ার পর গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড পাসপোর্ট অধিদফতরকে পাসপোর্ট দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে বিসিবি। কিন্তু এক মাস হতে চললেও পাসপোর্টের দেখা পাওয়া যায়নি।  

বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরকে অনুরোধ জানিয়ে বিসিবির চিঠিলিডোর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হোসেন অনেক দৌড়-ঝাঁপ করেও পাসপোর্ট ইস্যু করতে পারেননি ৮ জনের জন্য। নিয়ম অনুযায়ী, এই শিশুদের পাসপোর্টের জন্য বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। অভিভাবকহীন শিশুদের পাসপোর্টের জন্য আদালতের মাধ্যমে সবার আগে বৈধ অভিভাবক নির্ধারণ করতে হয়। আদালতের অনুমতির পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। এরপরই পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব। বিষয়টা বেশ সময়সাপেক্ষ।

এখনও পাসপোর্ট না পেয়ে ভীষণ চিন্তিত ফরহাদ হোসেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বললেন, ‘এই ছেলে-মেয়েদের অভিভাবক তো আমি। ৮ মাস আগে ওরা চিলড্রেন ওয়ার্ল্ড কাপে খেলার জন্য নির্বাচিত হয়। বিসিবি থেকে অনুমোদন পাওয়া যায় গত বছরের অক্টোবর মাসে। এরপর আমি বেশ কয়েকবার পাসপোর্ট অফিসে গিয়েছি। তারা আমাকে আদালত হয়ে আসতে বলেছে। কিন্তু আমাদের হাতে এত সময় নেই। এখন শুধু সরকারের হস্তক্ষেপে এই ছেলে-মেয়েদের স্বপ্নপূরণ সম্ভব।’

সরকারকে পাসপোর্টের জন্য অনুরোধ জানিয়ে ফরহাদ হোসেন বললেন, ‘ওদের পাসপোর্ট পেতে বেশ কিছু আইনগত বাধ্যবাধকতা আছে। তবে ওরা যেহেতু বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে, তাই সরকার বিশেষ বিবেচনায় ওদের জন্য পাসপোর্ট ইস্যু করলে খুব ভালো হয়। পাসপোর্টের কারণে এই শিশুরা যেতে না পারলে তা হবে চরম দুর্ভাগ্যজনক। তাই প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমাদের আবেদন, বিশেষ বিবেচনায় যেন এই শিশুদের জন্য পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়।’ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা যখন হতাশার কথা বলছিলেন, পাশে ফ্যাকাশে মুখে দাঁড়িয়েছিল সানিয়া-রুমেলরা।

হোমে পড়াশোনা করছে শিশুরালন্ডনের স্ট্রিট চাইল্ড ইউনাইটেড আয়োজিত এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সহ ১০টি দেশের ৮০ জন পথশিশুর অংশ নেওয়ার কথা। টুর্নামেন্টের জন্য প্রতিটি দেশ থেকে চারজন মেয়ে এবং চারজন ছেলে শিশুকে নির্বাচন করা হয়েছে।

গত রবিবার কেরানীগঞ্জ থানাধীন বসিলায় লিডো পিস হোমে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি রুমে বাচ্চারা পড়াশোনায় ব্যস্ত। প্রতিটি রুম শিশুরা নিজেদের পছন্দের রং দিয়ে সাজিয়েছে। দেয়ালে শোভা পাচ্ছে হোমের শিশুদের ছবি, ছবির নিচে সাদা কাগজে লেখা প্রত্যেকের স্বপ্ন ও লক্ষ্যের কথা। হোমে ঢুকতেই সুন্দর বাগান, আর সেটা শিশুদের যত্নে গড়া। পথশিশু হলেও এখন আর তাদের পথে থাকতে হয় না। থাকা, খাওয়া, পড়াশোনা, খেলাধুলা সহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা তারা পাচ্ছে লিডো থেকে। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুরা ছবি আঁকা, নাচ-গান ও আবৃত্তির চর্চা করে নিয়মিত।

এই ৮ জন সহ লিডো পিস হোমে সযত্নে বড় হচ্ছে ৫৩ শিশু। তাদের সেবা যত্নের জন্য পাঁচ জন ‘মা’ সারাদিন পরিশ্রম করেন। হোমের শিশুদের কারও মা নেই, কারও বাবা নেই, কারও মা-বাবা কেউ নেই। কেউ রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতো, কেউ বা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। লিডোর উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করে এই শিশুদের হোমে নিয়ে আসেন।

হোমের দেয়ালে শিশুদের ছবিএদের মধ্যে সবার বড় একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বপ্নার কথা, ‘কোনও শিশু যেন পথে না থাকে। পথশিশুরা তো সমাজের বোঝা নয়। সুযোগ পেলে আমরাও অনেক কিছু করতে পারি। প্রমাণ করতে পারি, আমরা অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে নেই।’

ইংল্যান্ডে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার স্বপ্ন সানিয়ার, ‘আমরা লাল-সবুজ জার্সি পরে ক্রিকেট মাঠে লড়াই করবো। বাংলাদেশের পতাকাকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী আমাদের বিষয়টা দেখবেন। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে তার সঙ্গে দেখা করার স্বপ্ন আমাদের।’

এই ৮ জনের পাসপোর্ট ইস্যুর বিষয়ে লিডোকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বিসিবি। বাংলা ট্রিবিউনকে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘মাসখানেক আগে ওরা আমাদের কাছে এসেছিল। আমরা ওদের পাসপোর্ট পেতে সহযোগিতা করছি। ওরা এখনও পাসপোর্ট পায়নি, তবে এ ব্যাপারে সব ধরনের সাহায্য করতে আমরা  প্রস্তুত।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘শুরুতে ওদের নিয়ে আমাদের কিছুটা কনফিউশন ছিল। তবে এখন আর তা নেই। ওদের সাহায্য করার জন্য বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরকে অনুরোধ জানিয়ে আমরা চিঠি দিয়েছি।’

কে জানে, ওদের স্বপ্ন পূরণ হলে হয়তো বাংলাদেশ পেয়ে যাবে ভবিষ্যতের মাশরাফি-সাকিব কিংবা সালমা-জাহানারাকে!

Themes
ICO