logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo
star Bookmark: Tag Tag Tag Tag Tag
Bangladesh

নুসরাত হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর পরিকল্পনা ছিল সিরাজের

সিরাজ উদ্দৌলা (ফাইল ছবি)

চাপ প্রয়োগে যৌন হয়রানির মামলা না তুললে ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে ভয়-ভীতি দেখানো এবং তাতে কাজ না হলে তাকে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ দেয় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা। শুধু তাই নয়, নুসরাতকে হত্যার পর ঘটনাটিকে কীভাবে আত্মহত্যা বলে চালাতে হবে, সেই পরিকল্পনাও সহযোগীদের শিখিয়ে দেয় সে।

বুধবার (১৭ জুলাই) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের এজলাসে দেওয়া সাক্ষ্যে এসব কথা বলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বাংলার প্রভাষক দিস্তা খানম, আয়া বেবী রানী দাস, সহপাঠী আকলিমা আক্তার ও কায়সার মাহমুদ। এদিন একই বিচারকের এজলাসে আরও সাক্ষ্য দেন সোনাগাজী পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইয়াসিন ও অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার নুরুল করিম। বাদীপক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমানসহ ২১ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এম শাহজাহান সাজু বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। ওই দিন সাক্ষী ফাহমিদা আক্তার, নাসরিন সুলতানা ও মোহাম্মদ কবির আহমেদের সাক্ষ্য নেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফেজ আহাম্মদ জানান, গত ২৭ ও ৩০ জুন মামলার বাদী ও নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্যদিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

তিনি আরও জানান, গত ২৯ মে আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে। ৩০ মে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়। ১০ জুন মামলাটি আদালত আমলে নিলে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত।

উল্লেখ্য, নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে কৌশলে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে গত ৮ এপ্রিল ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

All rights and copyright belongs to author:
Themes
ICO