logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo
star Bookmark: Tag Tag Tag Tag Tag
Bangladesh

ফিরেছে হাবিপ্রবির প্রাণচাঞ্চল্য, চলছে ক্লাস-পরীক্ষা

হাবিপ্রবিতিন মাস অচলাবস্থার পর দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। দুই দিন ধরে পুরোদমে চলছে ক্লাস-পরীক্ষা, যাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছেন আনন্দের সঙ্গে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৫৭ জন সহকারী অধ্যাপক ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে যে আন্দোলন করে আসছিলেন তার অবসান হলো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলমের আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে চুক্তি বাতিল, চাকরি থেকে দুজন সহকারী অধ্যাপকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, সার্বিক ঘটনা তদন্তে সকলের সম্মতিক্রমে ছয় সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন, বেতন-বৈষম্য দূরীকরণে পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেওয়ায় আন্দোলনরত দেড় শতাধিক শিক্ষক ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে গেছেন। এর ফলে সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পদচারণায় মুখ হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

গত ১৪ নভেম্বর থেকে বেতন বৈষম্য নিরসন, নারী শিক্ষিকার শ্লীলতাহানি ও শিক্ষক লাঞ্ছিতকারী প্রক্টর, রেজিস্ট্রার ও ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগ ও বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৫৭ জন সহকারী অধ্যাপক ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলন করে আসছিলেন। তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখেছিলেন প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকরাও। এতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিজ্ঞান অনুষদসহ অন্যান্য অনুষদের বেশ কয়েকটি বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে আন্দোলনকারী শিক্ষক ও প্রশাসন একাধিকবার আলোচনা করে কোনও সুরাহা হয়নি। এছাড়াও ক্লাস-পরীক্ষা চালুর দাবিতে প্রশাসনিক, একাডেমিকসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ করা, ফাঁসির দড়ি হাতে নিয়ে কান ধরে বসা, মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে, রবিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন থেকে আসা প্রতিনিধি দলটি প্রশাসন, আন্দোলনকারী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শিক্ষক, সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথকভাবে দফায় দফায় আলোচনা করেন। আন্দোলনকারী সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত ৫৭ শিক্ষক ও প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সর্বশেষ প্রস্তাবনা অনুযায়ী সমস্যার আপাতত সমাধান টানা হয়েছে। রাত প্রায় ১টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম-২-এ দুই শতাধিক শিক্ষক ও অডিটোরিয়ামের বাইরে অপেক্ষমান কয়েকশ’ শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর আবুল কাশেম সমস্যার আপাতত সমাধানকল্পে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান।

এছাড়াও প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের যৌক্তিক দাবিসমূহ আলোচনা সাপেক্ষে ৩১ মার্চ, ২০১৯ তারিখের মধ্যে সুষ্ঠু সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। লিখিত বক্তব্যে তিনি আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে সোমবার দুপুরের মধ্যেই অফিস আদেশ জারি করার কথাও বলেন।

সোমবার সকালেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত দুই সহকারী অধ্যাপক মহসীন আলী ও আবু বকর সিদ্দিকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। পরে দুপুরে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলমও নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের লেভেল ৪ সেমিস্টার ২-এর শিক্ষার্থী শাওন আহমেদ বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত খুশি হয়েছি। বাবা-মায়েরাও চিন্তামুক্ত হয়েছেন। আমরা পেছনের সব কথা ভুলে গিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’ এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিনিধি দলসহ সব শিক্ষককে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে শিক্ষার্থীদেরকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখাবার আহ্বান জানান তিনি।

বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধি ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কৃষ্ণ চন্দ্র রায় বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি ও শিক্ষার্থীদের তুখোড় আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শেষ পর্যন্ত সমস্যার সমাধানকল্পে ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণ করে ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছে।’

সহকারী শিক্ষক শাহীন আলম বলেন, ‘সোমবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেছেন। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছে আনন্দের সঙ্গে। তাদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।’

এদিকে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম বলেন, ‘উপাচার্যের নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই পদত্যাগ জমা দিলাম।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. খালেদ হাসান জানান, ‘সোমবার সকাল থেকেই ক্লাস-পরীক্ষাসহ যাবতীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বতস্ফূর্তভাবে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন।’ 

Themes
ICO