Bangladesh
This article was added by the user . TheWorldNews is not responsible for the content of the platform.

সব কিছু নির্ভর করছে আগামী কয়েকটা দিনের ওপর : মির্জা ফখরুল

সব কিছু নির্ভর করছে আগামী কয়েকটা দিনের ওপর : মির্জা ফখরুল

সব কিছু নির্ভর করছে আগামী কয়েকটা দিনের ওপর : মির্জা ফখরুল

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বাংলাদেশ এক ‘ভয়াবহ’ অবস্থায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ব্রি. জে. (অব.) আ স ম হান্নাস শাহর সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা একটা ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে আছি। সেই অবস্থা থেকে বের হতে না পারলে গোটা জাতির অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।

আজকে এই বিপদ, এই সংকট শুধু বিএনপির নয়। এই সংকট আজকে সমগ্র জাতির। আমরা ভবিষ্যতে স্বাধীন থাকব কিনা, আমার স্বাধীনতা থাকবে কিনা, আমার সার্বভৌমত্ব থাকবে কিনা, আমার দেশ করদ রাজ্যে পরিণত হবে কিনা, আমার গণতান্ত্রিক অধিকার থাকবে কিনা আমি আমার প্রতিনিধি আমি নির্বাচিত করতে পারবো কিনা তার সব কিছু নির্ভর করছে আগামী কয়েকটা দিনের মধ্যে।

ফখরুল বলেন, আমার একটাই কথা … যারা সংগ্রাম করছেন তাদের আরো বেশি করে শক্তিশালী হয়ে এই আন্দোলনকে এই সংগ্রামকে রাজপথে বিস্তৃত করে দিয়ে সাধারণ মানুষকে নামিয়ে আনতে হবে।

সাধারণ মানুষকে যখন রাজপথে নামিয়ে আনতে পুরোপুরিভাবে সক্ষম হব সেদিনই আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ওরা (ক্ষমতাসীনরা) কতটা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে… এখন দল ভাঙার চেষ্টা করে। দল কখন ভাঙতে যায় যখন সে বুঝে দুর্বল। আজকে তারা (সরকার) আমাদের দলছুট, বহিষ্কৃত লোকজনকে নিয়ে আবার দল তৈরি করে ঝামেলা করতে চায়।

আমরা খুব পরিস্কারভাবে বলছি, এগুলো করে কোনো লাভ হবে না। মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। মানুষ একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন চায় সব দলের অংশগ্রহণে। এর বিকল্প তারা কিছু চায় না।
আন্দোলন দমানো যাবে না উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের যে দায়িত্ব সেই দায়িত্ব আমরা পালন করছি।

আমরা রাস্তায় নেমেছি, প্রায় একবছর ধরে রাস্তায় নেমেছি, এর মধ্যে আমাদের ২২ জন তরুণ-যুবক নেতাদের প্রাণ গেছে রাস্তায় পুলিশের গুলিতে, আমাদের অসংখ্য মামলা হয়েছে, আমাদের অসংখ্য জেলে গেছে তারপরে আমাদেরকে কখনো দমিয়ে রাখতে পারছে না, পারবে না। এখন আমাদের রোড মার্চ হচ্ছে, এতে মানুষের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কিনা আপনারা দেখেন। আমি নিজে একটা রোড মার্চে ছিলাম বগুড়া থেকে রাজশাহীতে… রাস্তার দুই ধারে অগণিত পুরষ-মহিলা-নারী-শিশু, স্কুলের ছেলে মেয়েরা স্কুল থেকে বেরিয়ে আসছে… তারা এই রোড মার্চকে স্বাগত জানাচ্ছে এবং এই সরকারের পতন চাচ্ছে।

সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ওরা দেশকে ভয়াবহ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।আল-জাজিরা মিডিয়ার করোসপোডেন্ট তার সঙ্গে আমার কথা হচ্ছি কয়েকদিন আগে। তিনি বলছেন যে, আমি তো এখানে আছি, আসছি …কোনোদিন ভাবিনি যে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাব। এখন চিন্তা করতে শুরু করেছি যে, বাংলাদেশে থাকবো না। কোনো?

তিনি বলেন, আমাদের বহু বুদ্ধিজীবী এখন টেলিভিশনের টকশোতে আসেন না।কারণ কি? তাদের ভয় দেখানো হয় যে আপনারা যদি গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেন তাহলে আপনাদের বিপদ হবে। বিপদের মধ্যের মধ্যে যে সবচাইতে টাচি জায়গায় আঘাত করতে তারা। ছেলে-মেয়েরা যদি স্কুল-কলেজে পড়ে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, হুমকি দেওয়া হয় অদৃশ্য জায়গা থেকে… এই রাষ্ট্রে আমরা বাস করছি। আজকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে জড়িত ছিলাম আমরা এটা ভাবতেও পারি না যে, আমাদেরকে এখন গার্ডেডওয়েতে কথা বলতে হবে, আমাদেরকে এখন কোথায় যাব, না যাব, কার বিয়েতে যাব, অনুষ্ঠানে যাবো কি যাব না… এই বিষয়গুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটু, শ্রম বিষয়ক সহ-সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, কৃষক দলের সহসভাপতি ওমর ফারুক শাফিন, প্রয়াত আসম হান্নান শাহের ছেলে জেলা সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নান, স্থানীয় নেতা খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, সাংবাদিক রাশেদুল হক বক্তব্য রাখেন।