Bangladesh

যমুনায় তীব্র নাব্য সংকট, ডুবচরে আটকা অর্ধশত পণ্যবাহী জাহাজ

পাবনার নাকালিয়া এলাকায় ১ কোটি ৬১ লাখ লিটার জ্বালানি তেলবাহী ২৩টি জাহাজ যমুনার মাঝ নদীতে আটকে আছে। সময়মতো ড্রেজিং না করায় যমুনা নদীর প্রায় ৩২টি পয়েন্টে নাব্য সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ফলে ডুবোচরে পণ্যবাহী ৫০টি জাহাজ আটকা পড়েছে। আটকে পড়া জাহাজের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এসব কার্গো জাহাজ জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সার, কয়লা, গম নিয়ে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী বন্দরে যাচ্ছিল। নাব্য সংকটে জ্বালানি তেলসহ অন্য পণ্যবাহী জাহাজগুলো অর্ধেকেরও কম লোড নিয়েও নৌবন্দরে আসতে পাড়ছে না। মাঝ নদীতে আটকে পড়া জাহাজ থেকে লাইটারেজ করে পণ্যসামগ্রী বন্দরে আনা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার ডিস্ট্রিবিউটর এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী বিভাগীয় এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উত্তরাঞ্চলে প্রায় ৫ শতাধিক পেট্রোল পাম্প, ৩ শতাধিক ডিলার এবং ৫টি ডিজেল চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। জ্বালানি পৌঁছানোর জন্য নদীপথ হচ্ছে সাশ্রয়ী। তবে নাব্য সংকটে এখন নৌ পরিবহনগুলোর খুব বাজে অবস্থা। ডুবোচরে আটকে যাওয়ার ভয়ে ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক জ্বালানি নিয়ে তেলবাহী জাহাজগুলো বাঘাবাড়ী বন্দরে ভিড়তে বাধ্য হচ্ছে। তিনটি কোম্পানিতে প্রতিদিন পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে মাত্র ১৬ লাখ লিটার জ্বালানি তেল। অথচ সেচ মৌসুমে বাঘাবাড়ীর ডিপোর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিনটি কোম্পানি থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৬ লাখ লিটার জ্বালানি তেলের চাহিদা। আর প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার এই চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪৫ লাখ লিটারে। বর্তমানে প্রতিদিনের ঘাটতি প্রায় ২০ লাখ লিটার পূরণ করা হচ্ছে আপৎকালীন মজুত থেকে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে। এতে সেচনির্ভর বোরো আবাদে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে পাবনার বেড়া উপজেলার নাকালিয়া নৌ বন্দরে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও মোংলা বন্দর থেকে বাঘাবাড়ীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এম. ভি জুয়েল, এম.ভি ফেয়ারী-৫, ওটি আছিয়া বেগম, এম.ভি সুমাইয়া হোসেন, এম.ভি ফয়সাল-৪, এম.ভি ফয়সাল-৬, এম.ভি ফয়সাল-৮, এম.ভি ইব্রাহীম খলিল-১, জুয়েল-১, আল তায়েফ, এম.ভি আফিফা, এম.ভি ওয়ারিশ আহনাফ, সততা পরিবহন, মাজননী, বিসমিল্লাহ, আছিয়া পরিবহন, ভাই ভাই, আবু ছালে, এম.ভি জুয়েল, এমভি আছিয়া, এমভি সুমাইয়া, মেসার্স করিম শিপিং লাইন্স-২, ওটি শিপার্স ওয়ানন্ড-২, ওটি করিম-৬, এমভি সুলতানসহ ৫০টি জাহাজ নাকালিয়াসহ আরিচা পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে যমুনার ডুবোচরে আটকা পড়েছে। কার্গো জাহাজগুলো জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সার, কয়লা, গম নিয়ে বাঘাবাড়ী বন্দরে যাচ্ছিল। এর আগে গত ২ জানুয়ারি ১২টি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে পেঁচাকোলা এলাকায় ডুবোচরে আটকা পড়েছিল। এদিকে পেঁচাকোলার উজানে প্রায় ১৫-১৬টি ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ভাটিতে ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিপিসি’র বাঘাবাড়ী রিভারাইন অয়েল ডিপোর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানান, বাঘাবাড়ীতে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তিনটি তেল কোম্পানির ডিপোর আপৎকালীন মজুত থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রায় ৩০ লাখ লিটার জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ বন্দরে আনলোডের অপেক্ষায় রয়েছে। নাকালিয়াতে এক কোটি ৬১ লাখ লিটার জ্বালানি তেলবাহী ২৩টি জাহাজ যমুনা নদীতে আটকা পড়েছে। নাব্য সংকটে জাহাজগুলো বন্দরে আসতে পারছে না। বর্তমানে উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেল সংকটের আশঙ্কা নেই। তবে এ অবস্থা চলমান থাকলে জ্বালানি তেলের মারাত্মক সংকটের আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বাঘাবাড়ী বন্দরের সহকারী পরিচালক এস এম সাজ্জাদুর রহমান জানান, দৌলতদিয়া-বাঘাবাড়ী নৌপথ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সারসহ অন্যান্য মালামাল পরিবহনের একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মাধ্যম। এ নৌপথে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার, রাসায়নিক সার ও বিভিন্ন পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ চলাচল করে। বাঘাবাড়ী বন্দর থেকে উত্তরাঞ্চলে চাহিদার ৯০ ভাগ জ্বালানি তেল ও রাসায়নিক সার সরবরাহ করা হয়। আবার উত্তরাঞ্চল থেকে বাঘাবাড়ী বন্দরের মাধ্যমে চাল ও গমসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রী রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। নাব্য সংকটে বন্দরে আমদানি রফতানি প্রায় ৭০ ভাগ কমে গেছে। এ নৌ চ্যানেলের নাকালিয়া পয়েন্টে প্রচণ্ড নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ নৌ চ্যানেলের নাব্য ফিরিয়ে আনার জন্য ড্রেজিং কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তবে বিআইডব্লিউউটিএ’র একটি সূত্র বাঘাবাড়ী বন্দর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ করে বলেছেন, তারা সঠিক সময়ে তথ্য না দেওয়ায় সময়মতো ড্রেজিং করা সম্ভব হয় না, যখন জাহাজ আটকা পড়ে তখন আমাদের জানানো হয়।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা অফিসের একটি সূত্রে জানা যায়, রাসায়নিক সার ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য ১০ থেকে ১১ ফুট পানির গভীরতা প্রয়োজন হয়। বর্তমানে আরিচা থেকে নগরবাড়ী পর্যন্ত যমুনা নদীতে ২০ থেকে ২৫টি ডুবোচর ও প্রচণ্ড নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পানির স্তর কমে ৬ থেকে ৭ ফুটে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে এই নৌপথের মোহনগঞ্জ, হরিরামপুর, চরসাফুল্লা, নাকালিয়া, পেঁচাকোলায় এই সংকট প্রচণ্ড। এর মধ্যে নাকালিয়া পয়েন্টে নদীর গভীরতা একেবারেই কম। ইতোমধ্যে মোহনগঞ্জ, হরিরামপুর পয়েন্টে ডুবোচরে জ্বালানি তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ মাঝে মধ্যেই আটকা পড়েছে। এই সংকট নিরসনে ৪টি ড্রেজার কাজ করে যাচ্ছে।

এমভি চিলিং বিজয় এর মাস্টার হেলাল উদ্দিন জানান, দৌলতদিয়া থেকে বাঘাবাড়ী নৌবন্দর পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার নৌপথের ৩২টি পয়েন্টে পানির গভীরতা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ থেকে ৭ ফুট। সরু হয়ে গেছে নৌচ্যানেল। মোহনগঞ্জ ও নাকালিয়া পয়েন্ট কার্গোজাহাজ চলাচলের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ পয়েন্টে দুটি জাহাজ পাশাপাশি চলাচল করতে পারছে না। ওই পয়েন্টে জেগে ওঠা চরের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় দিন দিন চ্যানেলটি আরও সরু হয়ে যাচ্ছে। তার আশঙ্কা, এই পয়েন্টে দ্রুত ড্রেজিং না করা হলে পণ্যবাহী ও জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

Football news:

Laporta on being elected president of Barca: The club must once again be happy and economically sustainable
Liverpool have not won at Anfield in 8 consecutive league games for the first time since 1952
Pioli about Milan: We are proud that we have a young team, but we need stability
Laporta became president of Barcelona again. Under him, the club took 6 trophies in 2009
Mourinho on 4-1 with Palace: Good week. At half-time, he said he was happy to concede a goal, the players thought I was crazy
Liverpool dropped to 8th place in the Premier League, on lost points - 9th
Xavi won the 6th trophy in his coaching career. His Al-Sadd became the champion of Qatar