Bangladesh

বিদেশি অনুদানে বাস্তবায়িত প্রকল্প ব্যয়ে ভ্যাট-ট্যাক্স কতটা যৌক্তিক!

মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে ‘অনুদান’, ‘প্রকল্প’ ও ‘স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম’ বিষয়ে আইনগত ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন মনে করছি। বৈদেশিক অনুদান স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম রেগুলেশন আইন-২০১৬-এর ধারা ২-এর উপধারা–৩-এ প্রকল্পের সংজ্ঞা অনুসারে ‘প্রকল্প’ অর্থ এনজিও বিষয়ক ব্যুরো কর্তৃক অনুমোদিত কোনও প্রকল্প। একই আইনের ধারা ২-এর উপধারা ৫-এ ‘বৈদেশিক অনুদান’ অর্থ বিদেশি কোনও সরকার, প্রতিষ্ঠান বা নাগরিক অথবা প্রবাসে বসবাসরত কোনও বাংলাদেশি নাগরিক কর্তৃক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে স্বেচ্ছাসেবামূলক বা দাতব্য কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে কোনও সংস্থা, এনজিও বা ব্যক্তিকে প্রদত্ত নগদ বা পণ্যসামগ্রী অথবা অন্য কোনোভাবে প্রদত্ত যেকোনও অনুদান, দান সাহায্য বা সহযোগিতা।

উপরোক্ত আইনি সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করলে দেখা যায় যে, অনুদানের অর্থ নানাদিক দিয়ে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নাই। শুধু স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম বা দাতব্য কাজের ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বৈদেশিক অনুদানের অর্থ প্রদান করা হয়। আর এনজিও বিষয়ক ব্যুরো আইন অনুযায়ী প্রস্তাবিত অনুদানভিত্তিক প্রকল্পসমূহের অনুমোদন দিয়ে থাকেন। তাই অনুদানকে অনুদানই বলা নিরাপদ। অনুদান গ্রহণ করার কতগুলো ক্ষেত্র থাকে। স্থান-কাল ও ক্ষেত্রভেদে অনুদানের বিভিন্ন রূপ হতে পারে, কিন্তু উদ্দেশ্য একই।

এনজিও বিষয়ক ব্যুরো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। যার প্রধান কাজই হচ্ছে বৈদেশিক অনুদানে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এনজিওদের প্রস্তাবিত প্রকল্পসমূহের যথাযথভাবে যাচাই-বাচাই করে অনুমোদন প্রদান করা। এখন স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে আইনে কী বলা হয়েছে তা দেখা দরকার। বৈদেশিক অনুদান স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম রেগুলেশন আইন-২০১৬-এর ধারা ২-এর উপধারা-১০ এ-স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের নিম্নবর্ণিত সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে: ‘স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম’ অর্থ অলাভজনক সামাজিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষামূলক কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা, সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, কৃষি ও কৃষি উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসচেতনতা, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, গণতন্ত্র ও সুশাসন, মানবাধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রান্তিক ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের ক্ষমতায়ন ও অধিকার রক্ষা, শিশু ও কিশোর-কিশোরী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ ও অধিকার রক্ষা, সম-অধিকার ও সম-অংশগ্রহণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক সম্পদ, দক্ষতা উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি, বৃত্তিমূলক কার্যক্রম, সমাজকল্যাণ, গবেষণামূলক কার্যক্রম, বিভিন্ন জাতিসত্তা, ভূমি অধিকার রক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্ধারিত অন্য কোনও কার্যক্রমও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।

উপরোক্ত আইনি সংজ্ঞার বাইরে গিয়ে অনুদান ও অনুদানের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের নতুন করে ব্যাখ্যা বা সংজ্ঞা দেওয়ার প্রয়োজন নাই। বর্তমানে এনজিওগুলো বৈদেশিক অনুদানের এই আইনি সংজ্ঞার বাইরে কোনও কার্যক্রম পরিচালনা করছে না।

স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের প্রয়োজন কেন? প্রয়োজন তখনই যখন কোনও দেশে সরকার কর্তৃক নাগরিকদের জন্য সার্বিকভাবে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষামূলক কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা, সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, কৃষি ও কৃষি উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসচেতনতা, দারিদ্র বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, গণতন্ত্র ও সুশাসন, মানবাধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রান্তিক ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের ক্ষমতায়ন ও অধিকার রক্ষা, শিশু ও কিশোর-কিশোরী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ ও অধিকার রক্ষা, সম-অধিকার ও সম-অংশগ্রহণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক সম্পদ, দক্ষতা উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি, বৃত্তিমূলক কার্যক্রম, সমাজকল্যাণ, গবেষণামূলক কার্যক্রম, বিভিন্ন জাতিসত্তা, ভূমি অধিকার রক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়ার সামর্থ্য থাকে না তখন উক্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুদান গ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থা /সংগঠন/ ব্যক্তি বিচ্ছিন্নভাবে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান গ্রহণ করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজগুলো বাস্তবায়ন করে থাকেন।

বর্তমানে প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের প্রেক্ষাপট অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। এখন মৌলিক চাহিদার পাশাপাশি মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য অনুদান দেওয়া হয়। অনুদান দেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কর অব্যাহতি দিয়ে থাকেন। আমাদের দেশেও অনুদানের বিভিন্ন খাত নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত খাতগুলোতে অনুদান প্রদান করলে অনুদানের অর্থ থেকে আয়কর প্রত্যাহার বা অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এটা একটা ভালো দিক।

স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি আমাদের দেশেও বিদেশি অনুদানে সরকার ও এনজিওদের মাধ্যমে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব কার্যক্রম বেশিরভাগই ব্যয় হচ্ছে নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা মেটানোর কাজে, নতুবা মৌলিক অধিকার আদায়ে সচেতনতার কাজে বা অবকাঠামো উন্নয়ন কাজে। বর্তমানে বৈশ্বিক পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সাথে দক্ষ জনবল তৈরি করা একটি মৌলিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা তথা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও) তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার কাজ করছে। বিভিন্ন স্তরের কমিউনিটির সদস্যরা এখন নানাভাবে নিজ নিজ জায়গা থেকে দক্ষ হয়ে উঠছে। বেকারত্ব হ্রাসে ব্যাপক অবদান রাখছে বৈদেশিক অনুদানে পরিচালিত প্রকল্পসমূহ। যা সরকারের ৮ম পঞ্চম বার্ষিকী পরিকল্পনা ও এসডিজি অর্জনে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

এনজিও বিষয়ক ব্যুরো বিদেশি অনুদানে পরিচালিত এসব প্রকল্পের অনুমোদন প্রদানের সময় একটি শর্ত জুড়ে দেন এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সার্কুলার অনুযায়ী ভ্যাট-ট্যাক্স কর্তন করতে হবে। এনজিওগুলো অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের চেষ্টা করেন। এছাড়া অনুমোদিত প্রকল্পের নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সময় ভ্যাট-ট্যাক্স কর্তনের বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করার জন্য অডিটর “টিওআর”-এর একটি দফা সংযুক্ত করা হয়েছে (দফা নং ২৫/ এনজিও বিষয়ক ব্যুরো’র পত্র নং ০৩.০৭.২৬৬৬৬.৬৫৭.০৪৩.২৫৩.১৩/২৫২৫, তারিখ ২০/০৩/২০১৮ইং)।

এখানে দুটো বিষয় লক্ষ করা গেছে–

১. এনজিও বিষয়ক ব্যুরো বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট স্বেচ্ছাশ্রম কার্যক্রমের প্রকল্পের অনুমোদন দিয়ে থাকে; তাহলে উক্ত স্বেচ্ছাশ্রমের কার্যক্রমের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স প্রযোজ্য হয় হওয়া কতটা যৌক্তিক?

২. এনবিআর থেকে এনজিওদের স্বেচ্ছাশ্রমের বা বৈদেশিক অনুদানে পরিচালিত কোনও প্রকল্পের খরচের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স দেওয়া বা কর্তন করা হবে কিনা, এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও দিকনির্দেশনা/সার্কুলার বা এসআরও জারি করা হয়েছে কিনা তা আমার জানা নাই।

এনজিও বিষয়ক ব্যুরো অনুমোদন নিয়ে কাজ করেন এমন একাধিক এনজিও’র সাথে আলোচনা করে দেখা যায় যে, প্রকল্পের খাতভিত্তিক বাজেট বাস্তবায়নে ৫% থেকে ১৫% ভ্যাট ও ২% থেকে ১০% পর্যন্ত ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়। যার কারণে নির্ধারিত বাজেট ঘাটতি দেখা দেয় এবং ঘাটতি বাজেট দিয়ে টার্গেট অর্জন করা অনেক ক্ষেত্রে অসুবিধা হয়। প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম শেষ করলেও মানসম্মত কাজ সম্পাদন ব্যাহত হয়। যার ফলে বঞ্চিত হয় সরাসরি উপকারভোগী তথায় দেশের প্রান্তিক জনগণ।

এছাড়া কিছু সংখ্যক আইএনজিও রয়েছে, যারা বাংলাদেশের দুই ধরনের অপারেশন করেন। এদিকে তারা নিজেরা সরাসরি প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেন, অন্যদিকে স্থানীয় এনজিওদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। ইউএনওমেন, ইফাদ, জিআইজেড, জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি ইত্যাদি আইএনজিওগুলো স্থানীয় এনজিওদের মাধ্যমে যখন কাজ করতে যান তখন তারা অন্য এনজিওদের ভেন্ডর হিসেবে বা সেবা প্রদানকারী বা ঠিকাদার হিসেবে চুক্তি করেন। যার ফলে ১৫% ভ্যাট ও ১০% ট্যাক্স কর্তন করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। এ কারণে প্রকল্পের বাজেটের একটা বড় অংশ ভ্যাট ও ট্যাক্স পরিশোধে ব্যয় হয়ে যায়। মোট ২৫% বাজেট ঘাটতি থাকায় উন্নয়ন বা সেবামূলক কাজটি যথাযথভাবে করা সম্ভব হয় না। বঞ্চিত হয় সাধারণ উপকারভোগী। উপরে উল্লেখিত আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী এসব প্রকল্পের কাজগুলো যদি বৈদেশিক অনুদানে হয়ে থাকে, তাহলে এই প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের খাতগুলো জনকল্যাণে ব্যয় হয়, এখানে বিন্দুমাত্র ব্যবসা বা মুনাফার লেশমাত্র নাই। তাহলে সরকারকে ২৫% ভ্যাট ও ট্যাক্স পরিশোধ কতটা যৌক্তিক তা বিবেচনার বিষয়। দেশের প্রান্তিক মানুষের স্বার্থে বিষয়টিতে এনজিও প্রতিনিধি, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, সরকারি নীতিনির্ধারণী মহল, এমনকি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকেও নজর দেওয়া জরুরি।

লেখক: আয়কর আইনজীবী

Football news:

Contrast before the whistle in Prague: Slavia players lined up in front of a kneeling Arsenal
Unai Emery: I am used to matches against my former clubs, so the games with Arsenal are not something new
I drink beer, champagne, red wine. I eat cheese and caviar. Figo about watching football
Figo about Messi and Ronaldo: Truffles with caviar is difficult to compare
Pogba on the substitution at half-time: They tried to provoke me for the 2nd yellow card. The coach decided that it would be better if I left the field before the red
Ole Gunnar Solskjaer: Manchester United are in for a real European battle with Roma. We are good against the Italians
Mikel Arteta: An important victory at a crucial moment, but it will be difficult for Arsenal. Emery is the most successful coach in the history of the Europa League