logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo
star Bookmark: Tag Tag Tag Tag Tag
Bangladesh

ধর্ষককে ক্রসফায়ারে হত্যার দাবি সংসদে

জাতীয় সংসদ অধিবেশন ধর্ষককে সরাসরি ক্রসফায়ারে হত্যার দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এমন দাবি জানান। সরকারি দলের সিনিয়র সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, কেউ ধর্ষক হিসেবে চিহ্নিত হলে তার এই পৃথিবীতে থাকার কোনও অধিকার নেই। জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এই মুহূর্তে যদি এই সমাজকে ধর্ষণমুক্ত করতে চান, তাহলে এনকাউন্টার মাস্ট। তাকে গুলি করে মারতে হবে। একই দলের সংসদ সদস্য, সাবেকক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, যে হারে ধর্ষণ বেড়েছে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েও নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। অনুরোধ থাকবে ধর্ষণের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে মুজিবুল হক চুন্নু সারা দেশে ধর্ষণ ও নারী শিশু নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সারা দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। নারী সমাজ উদ্বিগ্ন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ১৭ হাজার ৯০০টি নারী নির্যাতনের মামলা হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫ হাজার ৪০০ জন। ১৮৫ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ২০১৮ সালে ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ৭২৭। গেল বছর ধর্ষণের পর ১২ শিশু মারা যায়। নারী মৃত্যু হয় ২৬ জনের। এ বছর ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যায় ১৪টি শিশু। তার মানে গত বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০১৯ সালে ধর্ষণ হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়টা যদি আমরা গুরুত্ব না দেই জাতির সামনে প্রশ্নের জবাব দিতে পারবো না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হলো, যদিও সরকার জরুরি ব্যবস্থা নিয়ে অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে। এরপরও জনমনে প্রশ্ন আছে। নানা কারণে মানুষ বিশ্বাস করছে না। এরপরই সাভারে ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ধামরাইয়ে একই ঘটনা ঘটে। তিনি ধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে এক দিন সময় নির্ধারণ করে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান সংসদে।
মুজিবুল হক বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলবো- মাদকের জন্য এত ক্রসফায়ার হচ্ছে, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে কেন একজনও বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়নি। সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে, এই বিষয়টা সরকার যদি গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে কোনোক্রমেই এটা নিয়ন্ত্রণ হবে না।’
জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, সাম্প্রতিকালে ধর্ষণ মহামারি রূপ নিয়েছে। ছাত্রী, শিশু, নারী শ্রমিক, প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। কেউ রক্ষা পাচ্ছেন না। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ দেই, অনেক ক্লুলেস ধর্ষককে তারা গ্রেফতার করতে পেরেছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী মর্মান্তিক ধর্ষণের শিকার হলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পেরেছে। প্রত্যেক জায়গায় ধর্ষকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাহলে বিচার হচ্ছে না কেন? বিচার কিন্তু যখন হয় তখন দেশের মানুষ মনে রাখতে পারে না। ১৫ বছর ২০ বছর পর একটা বিচার হয়। সম্প্রতি ধামরাইয়ে বাসে ধর্ষণের ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাসের চালককে গ্রেফতার করা হলো। কী বিচার হবে? কোনও সাক্ষী নাই। যখন মামলায় যাবে সাক্ষী থাকবে না। তাহলে কী করতে হবে?
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদের এখানে কিছু সংগঠনর আছে- মানবাধিকার সংগঠন। তারা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের কথা বলে। এই ধর্ষকদের কী আইন আপনি করবেন? তার কোনও ফাঁসি হবে না, জেলও হবে না। এক বছর পর বা এক সময় বেরিয়ে যাবে কেউ খবরও রাখবে না। এই মুহূর্তে যদি এই সমাজকে ধর্ষণমুক্ত করতে চান, তাহলে এনকাউন্টার মাস্ট। তাকে গুলি করে মারতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আইন লাগে না। পুলিশের আইন আছে তো। মাদকের আসামি পরশু দিনও ক্রসফায়ারে মারা গেছে। কোন আইনে মারা হয়েছে? এই যে বাসে ধর্ষণ করে যে মেয়েটিকে মেরে ফেললো, ধর্ষক ধরা পড়লো- তাকে কী করবো আমরা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হলেন সারাজীবনের জন্য তিনি এ কষ্ট ভুলতে পারবেন? এখন যদি সেই অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনেন- কোনও সাক্ষী নাই। এই মেয়েকে কাঠগড়ায় আনা হবে। সাক্ষী দিতে হবে কীভাবে ধর্ষণ করা হলো। কীভাবে ঘটনা ঘটেছে। এর চেয়ে লজ্জাজনক কিছু নেই। সারাজীবন তাকে এই জ্বালা সহ্য করতে হবে।’
কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আমি মানবাধিকার কর্মীদের বলবো, আপনারা যদি ধর্ষণের শিকার হতেন, আপনার স্ত্রী, আপনার মা, আপনার বোন, কিংবা আপনার স্বজনদের কেউ যদি ধর্ষণের শিকার হতেন, তাহলে কী হতো? আমরা চাই অপরাধীদের দ্রুত বিচার। এতে কোনও আইন হবে না। এক মাসের মধ্যে বিচার করা যাবে না। রূপাকে মারলো। ভাই বগুড়া থেকে বাসে তুলে দিল, তাকে ধর্ষণ করে ঘাড় মটকে মেরে ফেলা হলো। পুলিশ সবাইকে গ্রেফতার করলো। সেদিন পুলিশ যদি এই পাঁচ জনকে গুলি করে মধুপুরে নিয়ে মারতো তাহলে পরে বাসে টাঙ্গাইলের পথে কেউ ধর্ষিত হতো না।’
তিনি বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্পষ্ট বলতে চাই, ধর্ষণ করা হলো, আসামি ধরা পড়েছে। নির্যাতিতা বলছেন যে সেই আসামি। জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাকে নিয়ে গুলি করে মারুক। মানুষ দেখুক তার লাশ পড়ে আছে।’
কাজী ফিরোজ রশীদ আরও বলেন, ‘এখান থেকে এই মেসেজটা দিতে চাই, আমরা এমনভাবে বলতে চাই যাতে আর কোনও ধর্ষক যেন সাহস না পায়। কারও যদি ফাঁসি হয় কেউ খবর রাখে না। এখনই যদি এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ, তিন সপ্তাহের মধ্যে যদি বিচার করতে পারি, বিচার কী? একমাত্র শাস্তি এনকাউন্টারে মেরে ফেলা। ১০টা ২০টা মারা হোক ধর্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে। স্পষ্ট বলতে চাই, একমাত্র ওষুধ পুলিশ ধরার পর ওখানে নিয়ে গুলি করে মেরে ফেলা।’
বক্তব্যের জন্য মুজিবুল হক চুন্নু এমপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘তিনি একটা সুন্দর প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। কাজী ফিরোজ রশীদও সুন্দরভাবে বলেছেন। শিশুদের ওপর নির্যাতনের কথা বলেছেন। আমরা কি দয়া-মায়াহীন হয়ে গেলাম? মাদকের ব্যাপারে যদি সঙ্গে সঙ্গে ক্রসফায়ারে শেষ করে দেওয়া হয়, তাহলে মাদকের থেকেও জঘন্য ধর্ষণ। যে এই কাজ (ধর্ষণ) করেছে তার আর এই পৃথিবীতে থাকার কোনও অধিকার নেই।’
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ভারতে একজন চিকিৎসক মেয়ে বাস থেকে নামার পর চারজন তাকে ধর্ষণ করেছে। দুই-তিন দিন পর ক্রসফায়ারে তাদের হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ভারতে আর কোনও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। আইন-কানুন তো আছেই। তার মধ্যেও একটা চিহ্নিত লোক ওয়ারির ছয় বছরের একটা বাচ্চা মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে। আমাদেরও ছোট নাতি-নাতনি আছে। এটা হতে পারে না। এখানে কঠোর আইন করা দরকার।
নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ‘আমি টুপি, দাড়ি মাথায় নিয়ে আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে বলছি, এদের ক্রসফায়ার করলে বেহেস্তে যাওয়া যাবে, কোনও অসুবিধা নাই।

Themes
ICO