Bangladesh

করোনায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভাবনা

করোনা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনকে অনেকটা এলোমেলো করে দিয়েছে। গতানুগতিক সমাজ ও জীবনভাবনায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছে এ করোনা। সমাজ নতুন করে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে জীবনাচারে। পরিবর্তনের এ সূচি সমাজের আদিকাল থেকে। পরিবর্তনের অভিযোজন প্রক্রিয়ায় সমাজ কোনো কোনো সময় ধাক্কা খায়। সামলে নিতে অনেকটা সময়ও নেয়। এ সময়টায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- খানিকটা দাঁড়িয়ে যায়। এক ধরনের শঙ্কাও তৈরি হয় জীবন-জীবিকাকে ঘিরে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ে স্থবিরতার আশঙ্কা বাড়তে থাকে।

সরকারের দূরদর্শী সিদ্ধান্ত এবং কঠোর নজরদারি, সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ফলে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল হয়তো দেওয়া গেছে। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সমাজ বোধহয় তা অনেকখানি কাটিয়ে উঠেছে। তবে করোনা সামনে রেখে নতুন ভাবনায় এগিয়ে চলার চেষ্টায় চালাতে হবে গবেষণা, হয়তো তা চলছেও। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়–য়া ছেলেমেয়েদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে ইতোমধ্যেই। তারা এখন অবসর সময় কাটিয়ে যাচ্ছে বিভিন্নভাবে। তবে সংক্রমণ ঠেকাতে সারাবিশ্বের মতো সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও পড়–য়ারা খুব কম সময়েই ঘরে থাকছে। বেশিরভাগ সময় তারা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠছে।

শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে সরকারের অনলাইন শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। জাতীয়ভাবে সংসদ টিভি ও কিশোর বাতায়ন সুন্দর সুন্দর ক্লাস উপস্থাপনা করে যাচ্ছে। কিন্তু তা খুব কাজে আসছে না বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে। এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজগুলো দেশব্যাপী রুটিনমাফিক অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও তা শিক্ষার্থীরা খুব একটা দেখছে না। কেন দেখছে না, তা খুঁজে বের না করলে করোনা নিয়ে সামনের দিকে আগানো বেশ জটিল হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। এদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতাকে বিকশিত করার জন্য অ্যাসাইনমেন্ট পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এ পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মননে সৃষ্টিশীলকর্মের প্রেষণা তৈরি করবে নিশ্চিত। তাদের ভাবনাও বিকশিত করবে। পঠন-পাঠনে বিষয়ের গভীরে যাওয়ার কৌতূহল তৈরি করবে। কিন্তু তা নিয়েও বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে ভয়ঙ্কর সব খবর বের হচ্ছে। অসাধু শিক্ষকদের একটি অংশ অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করে দোকানে দোকানে দিচ্ছে। আর কোমলমতি শিশু-কিশোররা তা কিনে নিয়মমাফিক প্রতিষ্ঠানে জমা দিচ্ছে।

আবার অভিভাবকদের বরাতে জানা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অনলাইনে ক্লাস দেখার নাম করে মা-বাবার কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেট ও মেগাবাইট কেনার টাকা নিয়ে নিচ্ছে নিয়ম করে। কিন্তু ক্লাস না দেখে তা অন্য কাজে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে অর্থসংকটে থাকা অনেক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনসেট কেনা ও মেগাবাইট কেনার অর্থ না থাকায় অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম থেকে দূরে রয়েছে। এ শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের ফোনসেট কেনার অর্থ থাকলেও নিয়মিত মেগাবাইট কিনে ক্লাস দেখার সামর্থ্য নেই। ফলে বিভিন্ন বাস্তবতায় তারা ঘরের বাইরে বের হচ্ছে। এই বের হওয়া দিনের বেলায় নয় শুধু, সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও রাস্তা ও বাজারে জটলা করে ফেসবুকে গেমসহ আড্ডা দেওয়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের।

এসবের পর নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে লোভাতুর কতিপয় শিক্ষকের কোচিং ও প্রাইভেট ব্যবসা। নামিদামি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এ ব্যবসায় নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন। আর কোচিংই তাদের হয়তো ঘর থেকে বের করার সুযোগ করে দিচ্ছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার যেখানে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি এড়াতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে, সেখানে কা-জ্ঞানহীন কতিপয় শিক্ষক লোভ সামলাতে না পেরে আবারও যুক্ত হয়েছেন কোচিংয়ের সঙ্গে। শিক্ষার্থীরা কোচিংয়ের নামে দিনভর প্রায় বাইরে থাকছে। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার উদ্দেশ্য উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে, বেড়ে যাচ্ছে শঙ্কা। করোনা মোকাবিলা ও প্রতিরোধ করার জন্য বিশ্বময় চলছে ব্যাপক গবেষণা। ভ্যাকসিন তৈরিতে গবেষক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। এই ভ্যাকসিন কতদিনে মানবশরীরে প্রয়োগ করা যাবে, এখনো নিশ্চিত করে তারা কিছু বলতে পারছেন না। বলতে পারছেন না কতদিনেই বা করোনা থেকে মুক্তি মিলবে।

অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যাতে যুক্ত থাকে, যুক্ত থাকতে বাধ্য হয়- এজন্য নতুন করে বোধহয় ভাবার সময় এসেছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি এলাকায় সজ্জন ও নির্লোভ মানুষকে দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করা যেতে পারে। এ কাজে এলাকাভিত্তিক প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ এবং যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকেন- তা হলে তাদের বাছাই করে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এ কাজটি পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া যায়। এসব শিক্ষক ওই এলাকায় কোন কোন শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনসেট কেনার সামর্থ্য নেই, কোন কোন শিক্ষার্থীর মেগাবাইট কেনার সামর্থ্য নেই, কোন শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনসেট ও মেগাবাইট কেনার সামর্থ্য থাকলেও ক্লাসগুলোয় অংশ নিচ্ছে না- এর একটি সুন্দর তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে। এ কাজটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে করা যায়। এ কাজে কোনোভাবেই অসৎ ও অসাধু এবং ধান্দাবাজ জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা যাবে না। নির্ভুল ও পক্ষপাতহীন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মোবাইল ফোনসেট কেনার সঙ্গতিহীন শিক্ষার্থীদের স্বল্পমূল্যের মোবাইল ফোনসেট কিনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। তা ছাড়া নামমাত্র সুদেও প্রয়োজনে তাদের এ মোবাইলগুলো কিনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। এ ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনসেট তৈরি ও বাজারজাতকারী মোবাইল ফোনসেট কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো যায়। আর স্বল্পমূল্যে মেগাবাইট কেনা যায়- এমন উদ্যোগ নিয়ে মেগাবাইট কেনার সঙ্গতি নেই শিক্ষার্থীদের মেগাবাইট কিনে দেওয়ার ব্যবস্থার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। শক্ত মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার এ দায়িত্বগুলো নিয়ে কঠোরভাবে তা প্রয়োগ করার ব্যবস্থা করতে পারে।

দ্বিতীয়ত, করোনা সামনে রেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ করা যায় কিনা, তা ভাবনায় আনতে হবে। স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে অবকাঠামো নির্মাণের কথা ভাবতে হবে। প্রকৃত শিক্ষাবিদ ও পরিকল্পনাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিকল্পনামাফিক সামনের দিকে আগাতে হবে। এমনিতেই প্রায় এক বছর হতে চলল আমাদের করোনার সঙ্গে বাস। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে না পারলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কাও করছেন শিক্ষাবিদরা। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আসন বৃদ্ধির জন্য এখনই অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা নিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন হবে হয়তো বড় অঙ্কের বাজেট। এ বাজেট মেটাতে দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে।

আগামীর কা-ারি সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে ভাবনা অগ্রাধিকারে নিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতি বেঞ্চে দুজন করে বসিয়ে যাতে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়, এ পরিকল্পনাও এর সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। এজন্য যেভাবে অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া দরকার, সেভাবে তা আমলে নিতে হবে। একটি সুন্দর, সার্থক ও সফল আগামীর জন্য এ ভাবনাই ভাবিয়ে তুলুক জাতিকে। পরিকল্পনা গ্রহণ ও নীতি প্রণয়ন এবং কৌশল নির্ধারণের এজেন্ডাই হোক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের এজেন্ডা।

ফজলুল হক খান : সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি বেগম নুরনাহার তর্কবাগীশ কলেজ, রায়গঞ্জ

Football news:

Nuno on the draw with Chelsea: We understood that we would not have much possession
Messi broke Barcelona's record for the number of games in the Spanish Cup
Martin Edegor: Arteta seems to me a top coach, I like his ideas
Napoli has full confidence in Gattuso. The club has released an official statement
Jurgen Klopp: In this world, trust is lost very quickly: either everything is fine, or vice versa. But there are many stages in between
Atletico have agreed the transfer of midfielder Marcos Paulo from Fluminense. The transfer will take place in the summer
Buffon on comparisons to 43-year-old Brady: We can try to break the stereotypes about age-related athletes