Bangladesh

লকডাউন বৃদ্ধি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত

গত ১৪ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী লকডাউন শুরু হয়েছে। তবে যেভাবে লকডাউন কার্যকর হলে করোনা সংক্রমণ নিম্নগামী হয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সেভাবে বাস্তবায়ন করা বাংলাদেশে সম্ভব হচ্ছে না। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেও লকডাউন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দুই ধরনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া রয়েছে, সেটির বহিঃপ্রকাশও ঘটতে দেখা গেছে। আমাদের এখানে লকডাউন সত্যিকার অর্থে কার্যকর করার বাস্তবতা কতটা বিরাজ করছে সেটি নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু মার্চ মাস থেকে যেভাবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বাংলাদেশে আছড়ে পড়েছে তাতে লকডাউনের মতো ব্যবস্থা জরুরি হয়ে পড়ায় সরকার বাধ্য হয়েই ৪ এপ্রিল থেকে সীমিত লকডাউন এবং ১৪ তারিখ থেকে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছে। সীমিত লকডাউনকালে ব্যবসায়ীদের মধ্যেই শুধু প্রতিক্রিয়া সীমাবদ্ধ ছিল না, অন্যান্য জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার বিষয়টিকে সম্মুখে এনে কাজকর্ম করতে দেখা গেছে। ফলে ৪-১৩ তারিখ পর্যন্ত লকডাউনে দূরপাল্লার যানবাহন কিছুটা বন্ধ থাকলেও ব্যক্তিগত গাড়ি, ছোট ছোট যানবাহন অবাধে যাতায়াত করেছে। এর ফলে যাত্রীদের যাতায়াত খরচ ও ভোগান্তি বেড়েছে, বেড়েছিল অফিসগামী এবং দূরবর্তী জায়গায় যাতায়াত করার প্রয়োজনীয়তাও। প্রকৃতপক্ষে সীমিত লকডাউনটি খুব বেশি আমাদের সুফল দিতে পারেনি। এখন কঠোর লকডাউনও সর্বত্র নিয়মানুযায়ী কার্যকর হচ্ছে না। সেটি কার্যকর করা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে মোটেও সম্ভব নয়Ñ এটিই বাস্তব সত্য। এখন মূল সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। অলিগলিতে লকডাউনের প্রভাব সর্বত্রই অনুপস্থিত দেখা যাচ্ছে। ছোট ছোট শহরগুলোতে লকডাউনের চিত্র প্রায় একই রকম। কঠোর লকডাউন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বড় বড় শহরগুলো থেকে ব্যাপকসংখ্যক মানুষ গ্রামে পাড়ি জমায়। যানবাহনের ভোগান্তি ও কয়েকগুণ অর্থ খরচ করেই তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে। এই মানুষদের শহরে ধরে রাখা যায়নি। অনেকে আশঙ্কা করছেন শহর থেকে গ্রামে যারা গেছে তাদের মাধ্যমে গ্রামেও করোনা সংক্রমিত হতে পারে। এটি অবশ্য গবেষক এবং বিশেষজ্ঞদের গবেষণার বিষয় হতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত গ্রামে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এমন কোনো সংবাদ মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। বাস্তবে ভাইরাস শহরাঞ্চল ব্যতীত গ্রামাঞ্চলে কতটা ছড়িয়েছে সেটি নিয়ে প্রশ্ন আছে। গতবার যখন মানুষ একইভাবে শহর ছেড়ে অন্তত দুবার দলে দলে গ্রামে পাড়ি দিয়েছিল তখনো বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করেছিলেন যে এর ফলে গ্রামাঞ্চলে করোনা সংক্রমিত হতে পারে। কিন্তু অভিজ্ঞতায় তেমন সংক্রমণ ধরা পড়েনি। কিছু কিছু মানুষ করোনায় হয়তো মৃত্যুবরণ করেও থাকতে পারেন। কিন্তু শহরের মতো পরিবারভিত্তিক সংক্রমণ গ্রামাঞ্চলে ঘটেছে বলে শোনা যায়নি। অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন যে গ্রামের উন্মুক্ত পরিবেশ, প্রকৃতি, সূর্যের আলো এবং জীবনব্যবস্থায় মানুষের মধ্যে করোনা প্রতিরোধ করার সক্ষমতা শহরাঞ্চলের মানুষের চেয়ে অনেকটা বেশি বলেই মনে করা হচ্ছে। বিষয়গুলো গবেষকদের গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
আপাতত ২১ তারিখ পর্যন্ত লকডাউনের চিত্রটি বিশেষজ্ঞদের খুব একটা সন্তুষ্ট করার মতো নয়। প্রশ্ন উঠেছে লকডাউনের মেয়াদ সাধারণত ১৪-২১ দিন কার্যকর করা না গেলে এর থেকে সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। সেই বিবেচনা থেকে চিন্তা করলে ৭ দিন পর আরো ৭ দিন কঠোর লকডাউনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই। এমতাবস্থায় চলমান লকডাউনের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। গতকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদ খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিবদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশে করোনা সংক্রমণ এখন যথেষ্ট উচ্চমাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে। ৪০টিরও বেশি শহরে মানুষ করোনায় সংক্রমিত হচ্ছে। বর্তমানে যে ধরনের করোনায় মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, সেটি অবিশ্বাস্য উপসর্গ ও লক্ষণ নিয়ে ধরা দিচ্ছে। আক্রান্ত মানুষ টের পাওয়ার আগেই করোনায় কাবু হওয়ার প্রমাণও যথেষ্ট মিলছে। সে কারণেই এখন ঢাকায় হাসপাতালে রোগীদের নিয়ে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অক্সিজেন ও আইসিইউর সংকট মোকাবিলা করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। এসব রোগীর সবাই যে ঢাকার অধিবাসী তা নয়। অনেকেই নিকটবর্তী কিংবা দূরবর্তী জেলা থেকে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে এসেছেন। ছোট শহরগুলোতে হাসপাতালে বর্তমান করোনার চিকিৎসার সব ধরনের সুযোগ পুরোপুরি নেই। সে কারণেই অনেকেই ঢাকায় আসতে বাধ্য হয়েছেন। ঢাকায় এখন করোনাক্রান্ত রোগীর সাধারণ বেড পাওয়াই বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অক্সিজেন ও আইসিউ পাওয়া তো বেশ দুরূহ ব্যাপার। এরই মধ্যে জটিল এই করোনার ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুর মিছিলটি প্রতিদিনই বাড়ছে। প্রতিদিন শতকের ঘর পেরিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন করোনার এই ঢেউ প্রলম্বিত হতে পারে। সেটিকে এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আমাদের দেশের অবস্থা ব্রাজিলকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। সেজন্যই করোনা বিশেষজ্ঞরা এবং সরকার স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানার জন্য প্রতিদিনই আহ্বান জানিয়ে আসছে। বাস্তবতা হচ্ছে মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার নিয়মটি এক বছরেও মানুষের মধ্যে যে পরিমাণে অভ্যন্ত হওয়ার কথা ছিল, তেমনটি ঘটেনি। স্বাস্থ্যবিধির এই নিয়মগুলো সবাই কার্যকর করলে হয়তো আমাদের লকডাউনের মতো দুরূহ ব্যবস্থায় যেতে হতো না। কিন্তু মাস্ক পরা নিয়েই ব্যাপক মানুষের মধ্যে অসেচতনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এমনকি টিকা দেয়া নিয়েও বিরাটসংখ্যক মানুষের অনীহার কথা শোনা যাচ্ছে। আসলে অদৃশ্যমান করোনা ভাইরাসকে অনেকেই পাত্তা দিচ্ছেন না, অনেকেই এর মরণ সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন, নানা ধরনের কুসংস্কার সমাজে বিরাজ করছে। এছাড়া সমাজে বিজ্ঞান সচেতনতা, আইন মেনে চলা, যুক্তি ও বিবেচনায় পরিচালিত হওয়ার সংস্কৃতির যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এ ধরনের বাস্তবতায় বর্তমান লকডাউন প্রলম্বিত করা হলে সেটি কতটা কার্যকর করা যাবে সেটি নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এখন রমজান মাস। ১৪ তারিখ বাংলা নববর্ষ ছিল। নববর্ষের উৎসব ছিল। করোনার কারণে এবারো সেই উৎসব হয়নি। সামনে ঈদ উৎসব রয়েছে। বাংলা নববর্ষের উৎসব উপলক্ষে যারা পোশাকসহ নানা ধরনের পণ্য বিক্রির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তারা তা করতে পারেননি। গত বছরও তারা পারেননি। ফলে বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে যে অর্থনীতি, উদ্যোক্তা ও উৎপাদিকা শক্তি গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে পায়ের ওপরে দাঁড়িয়েছিল, তাদের অনেকরই পা ভেঙে যাওয়ার অবস্থা। তারা আর কবে পুঁজি ও পণ্যসামগ্রী নিয়ে দাঁড়াতে পারবেন সেটি বলা বেশ মুশকিল। এমনিতেই ১ বছর ধরে করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে দেশের ছোট, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ের সঙ্গে যারাই যুক্ত রয়েছেন তাদের অনেকেই দারুণ এক সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ তাদেরও ব্যাপকভাবে আঘাত করেছে। এই আঘাতটি অনেকেই সামলে উঠতে পারবেন কিনা তা নিয়ে তাদের অনেকেরই সন্দেহ রয়েছে। করোনার নতুন ঢেউ মোকাবিলা করতে গিয়ে অনেকেই লকডাউনের কারণে আরো পুঁজিহারা হচ্ছেন। সামনে ঈদ উৎসবে দেশে যে বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা ছিল সেটি নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। সে কারণেই ব্যবসায় বাণিজ্য ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যারা জড়িত তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও ঈদ উপলক্ষে তাদের বেচাকেনা চালিয়ে যেতে চাচ্ছেন। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতি যেভাবে জটিল হচ্ছে তাতে ঈদের বাজার উন্মুক্তভাবে আগের মতো চলতে দিলে ক্রেতা, বিক্রেতা ও মালিক সব পক্ষই জীবনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। সীমিত লকডাউনের সময় ঢাকার ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রাখতে পারেননি। এখনো পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এমন একটি উভয় সংকট জাতির সম্মুখে দণ্ডায়মান। লকডাউন তুলে দিলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বহুগুণে বৃদ্ধি পেতে পারে। তাতে জীবনহানির চিত্রটি কেমন হবে তা কেউই আন্দাজ করতে পারছে না। আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা এখনই যথেষ্ট হিমশিম খাওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। এটি ব্যাপক হারে বেড়ে গেলে চিকিৎসা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাষ্ট্র এবং সরকার দিব্যিজ্ঞানে যা অনুভব করছে বা দেখছে তা নিয়ে উদাসীন হতে পারে না। সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। আবার অন্যদিকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে করোনার সঙ্গে লড়াইরত সাধারণ মানুষ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে যেভাবে পর্যুদস্ত হয়ে পড়ছে তাতে তাদেরও অনেকেরই বেঁচে থাকা বেশ কষ্টকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। লকডাউনে অর্থনীতি স্থবির হয়ে যায়। আমাদের বাংলাদেশ ইতোপূর্বে অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত বিকাশমান ছিল বলেই এক বছরের এই যুদ্ধে ভেঙে পড়ে যায়নি। তবে ব্যক্তিপর্যায়ে অসংখ্য মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সীমাহীন ক্ষতির সম্মুখে এখনো রয়েছেন। তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও কমে যাচ্ছে। গত বছর সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ যেভাবে দেশব্যাপী পরিচালিত হয়েছিল, এবার হতদরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে সেভাবে দাঁড়াতে কম ব্যক্তি, দল, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে দেখা যাচ্ছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে কর্ম ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের করণীয় কী হতে পারে তা সরকারই গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করে গ্রহণ করবে সেটি সচেতন মহল আশা করছে।
তবে করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা শহরগুলোকে নিয়ে সরকার একভাবে চিন্তা করতে পারে। কিন্তু যেসব অঞ্চলে বা শহর-উপশহরে করোনার প্রকোপ তেমন বেশি নেই, সেখানে স্বাস্থ্যবিধির কার্যকারিতাকে বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে লকডাউনমুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেটি করা গেলে অর্থনীতি, জীবন-জীবিকা কিছুটা হলেও গতি খুঁজে পাবে। সেটি বাস্তবায়ন করার জন্য শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনই যেন যথেষ্ট না হয়, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে সেখানে ভূমিকা রাখার জন্য যুক্ত করা আবশ্যক বলে মনে করি। অন্যদিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শহরগুলোতে লকডাউন কার্যকর করার শক্তি সরকারের কতটা রয়েছে তা বিবেচনায় নিয়ে কমপক্ষে সীমিত আকারে হলেও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়গুলো কড়াকড়িভাবে পালনের চেষ্টা করা উচিত।

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত), ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক।
[email protected]com

Football news:

Griezmann spoke with Hamilton and visited the Mercedes boxes at the Spanish Grand Prix
Barcelona feels that Neymar used it. He said that he wanted to return, but extended his contract with PSG (RAC1)
Aubameyang to the Arsenal fans: We wanted to give you something good. I am sorry that we could not
Atletico did not lose at the Camp Nou. Busquets' injury is the turning point of the match (and the championship race?)
Verratti injured his knee ligaments in PSG training. Participation in the Euro is still in question
Neymar's contract in one picture. Mbappe wants the same one
Manchester United would like to sign Bellingham in the summer, not Sancho. Borussia do not intend to sell Jude