logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo
star Bookmark: Tag Tag Tag Tag Tag
Bangladesh

মোশতাক জিয়ার মতো বেইমানের জন্ম বারবার হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের মাটিতে মীরজাফর, খন্দকার মোশতাক এবং জিয়াউর রহমানের মতো বেইমানের জন্ম বারবার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এ দেশে আমরা দেখি সেই মীর জাফর, মোশতাক থেকে শুরু করে খুনি জিয়াউর রহমানের মতো বেইমানের জন্ম বারবার হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতে আর এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কেউ যেন ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেই দায়িত্ব বাংলাদেশের জনগণকে নিতে হবে। আমাদের তরুণ সমাজকে নিতে হবে। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে এই ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।

গতকাল বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় সূচনা বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তান হিসেবে অনুভূতি ব্যক্ত করেন শহীদ আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আব্দুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান এবং দক্ষিণের আবু আহম্মেদ মান্নাফী। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় ছিল- যারা আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে তাদের মন্ত্রী বানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে। তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে। আর জাতির পিতা আত্মস্বীকৃত হত্যাকারী, একসময় যারা গর্বভরে বলেছিল কে তাদের বিচার করবে, সেই খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিল বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে।

তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশ চায় না, পাকিস্তানে চলে গিয়েছিল, তাদেরই ফেরত আনা হলো। গোলাম আযমকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, সে তো ফিরে এসেছিল পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে। ফেরত নিয়ে এলো জিয়াউর রহমান। আব্দুল আলিম, মাওলানা মান্নান থেকে শুরু শাহ আজিজ। এই শাহ আজিজকে পাকিস্তান প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছিল বিদেশে- মুক্তিযুদ্ধকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলার জন্য, ওকালতি করার জন্য। তাকে জিয়াউর রহমান বানাল প্রধানমন্ত্রী। যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি সে হলো প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সেই রাজাকার বাহিনী, আলবদর বাহিনী, যারা এই বুদ্ধিজীবীদের ঘর থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে তাদের বানাল মন্ত্রী। তারা মন্ত্রী হয়ে দেশকে ধ্বংস করেছে। তাদের হাত দিয়েই খালেদা জিয়ার ব্যবসা, দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা। তার ছেলেই সাজাপ্রাপ্ত। আর নিজে তো এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে আছে। একটা দেশের মানুষের জন্য দরদ নেই এবং এই দেশটা যে এত লাখো শহীদের রক্তের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, এই বিষয়ে তাদের কোনো রকম কোনো সহানুভূতি ছিল না। তাদের ওই পাকিস্তানের প্রতি যে বহুল আনুগত্য, সেই আনুগত্যই তারা দেখিয়ে গেছে। তাদেরই তোষামোদী, চাটুকারিতা করে গেছে এবং তারা করে যাচ্ছে এখনো।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় পার্টির এরশাদও সেই একই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। এরশাদ ক্ষমতায় এসে ফারুককে করেছে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী। দল করার সুযোগ দিয়েছে। খুনিরা বানিয়েছে ফ্রিডম পার্টি। অর্থাৎ খুন করার ফ্রিডম, সেই ফ্রিডম দিয়েছিল এরশাদ। আর খালেদা জিয়া এসে তো আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন, স্বামী যা করেছেন তার থেকে আরও বেশি করলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর এ দেশের মানুষ কষ্ট ভোগ করেছে। এর পর আবার ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত তাদের কষ্ট ভোগ করতে হয়েছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সেগুলোর সৃষ্টি করেছে। পরে আমরা যখন সরকারে এলাম, তার পর শুরু হলো অগ্নিসন্ত্রাসের তা-ব। যার মধ্যে এতটুকুু মনুষ্যত্ব থাকে সে কি পারে মানুুষকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করতে? এটাই নাকি খালেদা জিয়ার আন্দোলন ছিল! অর্থাৎ খুন, হত্যা ছাড়া এরা আর কিছুই জানে না। মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে তাদের পেটোয়া বাহিনী বানিয়েছে। শুরু করল জিয়া, তার পদাঙ্ক অনুসরণ করল খালেদা জিয়া।

তিনি আরও বলেন, এই দেশটাকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া, এটিই ছিল তাদের লক্ষ্য। কিন্তু আল্লাহর রহমতে, এখন বাংলাদেশ সারাবিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। জাতির পিতা তার সারাটা জীবন ত্যাগ স্বীকার করে এই বাংলাদেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। কাজেই এই রক্ত কখনো বৃথা যায় না, বৃথা যেতে পারে না। আজ আমরা যে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি, এর ধারাবাহিকতা নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুদ্ধিজীবীরা জীবন দিয়ে গেছেন এ দেশের জন্য। যাদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের নামটাও তো মুছে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু সেটা মুছে ফেলতে পারেনি। কারণ আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যায় না, কখনই বৃথা যায়নি। সেটাই প্রমাণ হয়েছে এখন বাংলাদেশে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ ২৪ বছরের পাকিস্তানি বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে দেশের আপামর জনসাধারণকে সংগঠিত করে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় জামায়াতসহ ধর্মান্ধ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তারা আলবদর, আলশামস ও রাজাকার বাহিনী গঠন করে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তার পাশাপাশি হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুট করে। বাঙালি জাতির বিজয়ের প্রাক্কালে তারা দেশের শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, আইনজীবী, শিল্পী, প্রকৌশলীসহ বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, বিশ্বসভায় যেন বাংলাদেশ তার মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে, তা হলেই শহীদের আত্মত্যাগ এবং তাদের যে মহান অবদান, সেটা চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, বাংলাদেশকে সেভাবেই আমরা গড়ে তুলতে চাই। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো।

Themes
ICO