Bangladesh
This article was added by the user . TheWorldNews is not responsible for the content of the platform.

সংস্কৃতিকর্মীদের উপর আরোপিত ১০ শতাংশ কর মওকুফের দাবি

২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে সংস্কৃতিকর্মীদের উপর আরোপিত ১০ শতাংশ উৎসে কর মওকুফ করার দাবি জানিয়ে প্রতিবাদী শিল্পী সমাবেশের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ।

শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংগঠনটির ব্যানারে এই প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সংগঠনটির সহ-সভাপতি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রোকাইয়া হাসিনার সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন- সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, কবি ও সাংবাদিক নাসির আহমেদ, কণ্ঠশিল্পী আবুবকর সিদ্দিক, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী, বাচিক শিল্পী ও অভিনেতা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, আবৃত্তি শিল্পী রূপা চক্রবর্তী, শিল্পী ড. বিশ্বজিৎ রায়, সংগীতশিল্পী পীযুষ বড়ুয়া, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র শীল প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা সংস্কৃতিকর্মীদের উৎসে করারোপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে কর মওকুফের দাবি জানান। এসময় তারা শিল্পীদের সম্মানী দেয়ার নামে মূলত বহুকাল ধরে শিল্পীদের অসম্মান করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। শিল্পীদের সম্মানী বেতন নয়, সুতরাং এটির উপর আইনগতভাবেই কর আরোপ করা নৈতিকতা বহির্ভূত বলেও উল্লেখ করেন তারা।

বক্তারা আরো বলেন, সংস্কৃতিকর্মীদের উপর আরোপিত ১০ শতাংশ উৎসে কর মওকুফ করার দাবিতে গত ৪ সেপ্টেম্বর বিশিষ্ট সংস্কৃতিকজন রামেন্দু মজুমদার-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তবে পরবর্তী সময়ে এটি নিয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের কর মওকুফের দাবিতে প্রতিবাদী সমাবেশে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়। এরপরেও দাবি না মানা হলে আন্দোলনের কঠোর হুঁশিয়ারীও দেয়া করা হয়।

কবি নাসির আহমেদ বলেন, শিল্পীদের সম্মানী দেয়ার নামে মূলত বহুকাল ধরে অসম্মানিতই করা হয়। এত কম সম্মানী দেয়া হয়, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীন বলেন, সংস্কৃতিকর্মীদের স্বল্প সম্মানির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বোধহয় এখনো জানেন না। তার উপরে আবার ১০ শতাংশ কর। এটি খুবই বেমানান। আমরা সৃষ্ট এই সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

গোলাম কুদ্দুছ বলেন, সম্মানী কোন বেতন নয়, আইনগতভাবেই এর উপর কর আরোপ করা যায় না। এই যুক্তির ভিত্তিতেই সাবেক অর্থমন্ত্রী ড. আবুল মাল আবদুল মুহিত শিল্পী সম্মানীর উপর কর তুলে দিয়েছিলেন। এসময় তিনি সমগ্র শিল্পী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার আহ্বান জানান।

প্রতিবাদী সমাবেশ থেকে বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে গৃহীত কর্মসূচি নেয়া হয়। আগামী ৬ অক্টোবর (শুক্রবার) সকল বিভাগীয় শহরে ও ১৩ অক্টোবর (শুক্রবার) সকল জেলা শহরে প্রতিবাদ সমাবেশ, এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অর্থমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।

এআই