Bangladesh
This article was added by the user . TheWorldNews is not responsible for the content of the platform.

উইন্ডিজ-বাংলাদেশ সিরিজ সম্প্রচার নিয়ে জটিলতায় যা বলছে টিএসএম 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বাংলাদেশের খেলা  টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার নিয়ে জেগেছে শঙ্কা। আইসিসি চ্যাম্পিয়নশিপের দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের সঙ্গে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজও রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ এই সফরের টিভি সম্প্রচার স্বত্ব পায়নি বাংলাদেশি কোনো টিভি চ্যানেল।

স্বাগতিক বোর্ডই মূলত সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করে থাকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে এটি করছে তৃতীয় পক্ষ টোটাল স্পোর্টস মার্কেটিংয়ের (টিএসএম) মাধ্যমে। এই টিএসএম-এর কাছ থেকে এখন পর্যন্ত দেশি কোনো টিভি চ্যানেল সম্প্রচার স্বত্ব কেনেনি।

কিন্তু কেন? এ বিষয়ে টিএসএমের একজন্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে রাইজিংবিডির কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তার মতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট বিষয়গুলোর জন্য দায়ী, ‘এটা বৈশ্বিক সংকট। মানুষ খেতে পারছে না। মধ্যবিত্ত উচ্চবিত্ত সবাই ভুক্তভোগী। যেখানে মানুষের জীবিকা নির্বাহ করাটা কষ্টকর হয়ে যায়, তখন খেলাটা মুখ্য হয় না।’

তিনি আরও বললেন, ‘সামগ্রিকভাবে সবাই একটা সমাধানের চেষ্টা করছে। আমি এখানে তেমন কিছু না। আমি আমদানিকারক, জিনিসটা এখানকার ব্রডকাস্টারদের কাছে বিক্রি করবো। আর ব্রডকাস্টাররা বিজ্ঞাপন থেকে সেটা তুলে নেয়।’

টিএসএমের এই কর্মকর্তার দাবি, ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের তুলনায় এবার দাম ৪০ শতাংশ কম রাখা হয়েছে। কিন্তু তবুও টিভি চ্যানেলগুলো এগিয়ে আসতে পারছে না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে সাড়া পাচ্ছে না চ্যানেলগুলো। 

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘যারা ক্লায়েন্ট আছে তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাচ্ছি না। উনারা যে কিছু একটা অফার করবেন সেই ব্যবস্থাও নেই। বড় বড় করপোরেট কোম্পানি যারা বিজ্ঞাপন দেবে, তাদেরই কোনো সাড়া নেই। মোট কথা কোনো করপোরেট কোম্পানির সাপোর্ট পাচ্ছে না তারা। দাম বলারই সাহস হচ্ছে না, সমোঝোতা পরের কথা।’

তার দাবি চ্যানেলগুলোর সঙ্গে টিএসএমের ব্যবাসায়িক কোনো দ্বন্দ্ব নেই। সামাধানের উপায় হিসেবে বলছেন, ব্রডকাস্টারদেরও এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আপনি যদি দেখেন আপনার এখান থেকে ক্ষতি হবে, তখন কী করবেন? কমে হলেও ছেড়ে দেবেন। যাতে ক্ষতিটা একটু কমে। কিন্তু এই কম পরিমাণের প্রস্তাবটাও আসতে হবে। তারাতো এটাও সাহস পাচ্ছে না। কারণ তারা এটা তুলতে পারবে কি না নিশ্চিত না। ব্রডকাস্টারদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে। তাদেরও চিন্তা করতে হবে সব সিরিজে তারা লাভ করতে পারবে না। এটা সামগ্রিক চিন্তা করতে হবে।’ 

‘আর ক্ষতিটা কি একপক্ষই দেবে এখানে? সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে ভুর্তুকি দিতে। আমিই কী একমাত্র লোক যে বিবেচনা করবো? আমিতো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডকে এক পয়সা কম দিতে পারবো না। ক্ষতিতে তো আমি বিক্রি করতে পারবো না।’-আরও যোগ করেন টিএসএমের এই কর্তা। 

যেহেতু স্বত্ব তৃতীয় পক্ষের হাতে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু করার নেই। বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান তানভীর আহমেদ টিটু জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে অনুরোধ করা ছাড়া তাদের হাতে কিছু করার নেই।

শনিবার তিনি মিরপুরে বলেছিলেন, ‘আসলে আমরা যখন কোনো সিরিজ খেলতে দেশের বাইরে যাই, তখন সেটা পুরোটা নির্ভর করে সেই দেশের বোর্ড ও তাদের ব্রডকাস্টারদের ওপর। এখানে বিসিবির কোনো হাত থাকে না। আমরা কেবল অনুরোধ করতে পারি সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে যেন আমাদের দেশে সম্প্রচার করতে পারে। এছাড়া আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু করার থাকে না।’

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের খেলা সম্প্রচার করে থাকে টি-স্পোর্টস। চ্যানেলটির একজন কর্মকর্তা বলছেন, এবার টি স্পোর্টসে খেলা দেখানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ।

রাইজিংবিডিকে তিনি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ কিছু জটিলতার কারণে সমস্যা হচ্ছে। সম্প্রচারের সম্ভাবনা ক্ষীণ।’

এছাড়া গাজী টেলিভিশনও বাংলাদেশের খেলা সম্প্রচার করে। এবার তারাও খেলা দেখাতে আগ্রহী নয়। তবে কেউ না দেখালে শেষ মুহূর্তে গাজী টেলিভিশনের এগিয়ে আসার কথা রয়েছে।