Bangladesh

১৩০ কোটি শিশুর বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ নেই

বিশ্বব্যাপী ৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৩০ কোটি শিশুর বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ নেই। একই অবস্থা ১৫-২৪ বছর বয়সী তরুণদের ক্ষেত্রেও। ৭৫ কোটি ৯০ লাখ তরুণ-তরুণীর ঘরে ইন্টারনেট সংযোগ নেই।

ইউনিসেফ ও আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) ‘কত সংখ্যক শিশু ও তরুণের ঘরে ইন্টারনেট সুবিধা আছে?’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) ইউনিসেফের ঢাকা কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ‌্য জানানো হয়েছে।

২০১৯ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর করা মাল্টি ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৬২ শতাংশ পরিবারের বাড়িতে ইন্টারনেট নেই।

বাংলাদেশে সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারের মধ্যে মাত্র ৮ দশমিক ৭ শতাংশের বাড়িতে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ আছে, যেখানে সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবারের ক্ষেত্রে এই হার ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ। দূরশিক্ষণের আরেকটি প্রধান মাধ্যম টেলিভিশনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ৫১ শতাংশ পরিবার টেলিভিশনের মালিক। সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারের মধ‌্যে মাত্র ৪ দশমিক ৮ শতাংশ টেলিভিশনের মালিক, যেখানে সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবারের মধ্যে এই হার ৯০ দশমিক ২ শতাংশ।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি টোমো হোযুমি বলেছেন, ‘দূরশিক্ষণের এই মাধ্যমগুলো ব্যবহারের সুযোগ না পাওয়া শিশুরা ডিজিটাল বিভাজন ও বৈষম্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মহামারি চলাকালীন তারা শিক্ষা গ্রহণের কম সুযোগ পেয়েছে, যা তাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ এলোমেলো করে দিয়েছে। এই বিভাজন আগে থেকে বিদ্যমান বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’

করোনার কারণে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইন্টারনেট ও টেলিভিশন ছাড়া শিক্ষা কার্যক্রম কার্যকরভাবে এই শিশুদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিজিটাল বিভাজন বৈষম্য দীর্ঘস্থায়ী রূপ দিচ্ছে, যা ইতোমধ্যে দেশ ও কমিউনিটিগুলোকে বিভক্ত করে ফেলেছে। দরিদ্রতম পরিবার, গ্রামাঞ্চল ও স্বল্প আয়ের পরিবারের শিশু ও তরুণ জনগোষ্ঠী তাদের সমবয়সী বা সহপাঠীদের চেয়ে আরও পিছিয়ে পড়ছে এবং পুনরায় সহপাঠীদের সঙ্গে একই কাতারে পৌঁছানোর সুযোগও তাদের খুব কম।

বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে ধনী পরিবারের স্কুলবয়সী শিশুদের মধ্যে ৫৮ শতাংশের বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ আছে, যেখানে সবেচেয়ে দরিদ্র পরিবারের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ১৬ শতাংশ। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে স্কুলগামী প্রতি ২০ জন শিশুর মধ্যে একজনেরও কম শিশুর বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ আছে, যেখানে উচ্চ-আয়ের দেশগুলোতে প্রতি ১০ জন শিশুর ৯ জনের বাড়িতেই ইন্টারনেট সংযোগ আছে।

দেশ এবং অঞ্চলজুড়ে ভৌগোলিক বৈষম্যও আছে। বিশ্বব্যাপী, শহরাঞ্চলে স্কুলগামী শিশুদের প্রায় ৬০ শতাংশের বাড়িতে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নেই, যেখানে গ্রামে থাকা পরিবারগুলোর স্কুলবয়সী শিশুদের প্রায় তিন চতুর্থাংশ এ সুবিধা পায় না। সাব-সাহারা আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার স্কুলবয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, যেখানে প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে প্রায় ৯ জনই ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে।

গত বছর ইউনিসেফ ও আইটিইউ প্রতিটি স্কুল ও তার আশপাশের কমিউনিটিকে ইন্টারনেটে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘গিগা’ চালু করে। সরকারগুলোর সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে ‘গিগা’ এরইমধ্যে ৩০টি দেশে ৮ লাখেরও বেশি স্কুলের তথ্য সংগ্রহ করেছে। এই তথ্য নিয়ে ‘গিগা’ ডিজিটাল শিক্ষা সমাধান ও অন্য সেবা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সংযোগের অবকাঠামো তৈরিতে সরকারি-বেসরকারি মিশ্রিত বিনিয়োগের জন্য বাধ্যতামূলক বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরির লক্ষ্যে সরকার, শিল্পখাত, বেসামরিক খাত এবং ব্যক্তিগত খাতের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।

Football news:

Zidane has no intention of resigning, Real Madrid will make a decision after the season (Marca)
Chiesa injured his ankle. He was replaced in the match against Napoli
Neuer on Bayern's two consecutive wins: This is a message to the competitors
Gattuso about 0:2 with Juve: Insigne should not think that Napoli lost because of him
Nepomnyashchy against reducing the RPL to 12 clubs: Russia is not ready to sacrifice a large number of fans
Wolverhampton loan Willian Jose from Sociedad with a buy-out option
AC Milan are close to loaning Tomori to Chelsea with a 20+ million euro buy-out option