logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo
star Bookmark: Tag Tag Tag Tag Tag
Bangladesh

বিশ্বকাপের সেরা মুহূর্তগুলো

Voice Control HD Smart LED

লন্ডন থেকে ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিশ্বকাপ শুরু হবে।  বিশ্বকাপ শুরু হল।  বিশ্বকাপ শেষও হয়ে গেল। সবকিছু এতো দ্রুত হল যে বোঝার উপায় নেই এর মাঝে ঘটে গেছে কতো কিছু! ব্যাট-বলের উত্তাপ ছড়াল, কতো-শত রেকর্ড ভাঙল, কতো বাধনহারা উল্লাস, কতো হৃদয়ভাঙ্গার গল্প…এরই মাঝে ক্রিকেট বিশ্ব পেল নতুন চ্যাম্পিয়ন।

ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড জিতল বিশ্বকাপের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। আর গতবারের রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড এবারও থেকে গেল রানার্সআপ।  ১১ ভেন্যুতে বিশ্বকাপের ৪৮ ম্যাচ।  শেষ মঞ্চের নায়ক এউয়ন মরগ্যানরা। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো’ অব আর্থের মর্যাদা না পেলেও ক্রিকেট বিশ্বের সেরা উৎসব হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ।

মাঠ থেকে ক্রিকেটের উৎসব দেখার অভিজ্ঞতা প্রথম। আমার দেখা দ্বাদশ বিশ্বকাপের সেরা মোমেন্টস পাঠকদের জন্য তুলে ধরছি :

অবিশ্বাস্য ফাইনাল :

স্নায়ু ধরে রাখা দায়! এই জন্য এতোটা উত্তেজনাকর এক ফাইনাল।  নির্ধারিত ১০০ ওভারের ম্যাচ টাই।  ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথম।  ক্রিকেট বিশ্বকাপে পঞ্চম।  রোমাঞ্চ, উত্তেজনা, উল্লাস সবকিছু ছিল। প্রতিটি ঘন্টা, প্রতিটি মিনিট, প্রতিটি সেকেন্ডে স্নায়ু উঠা-নামা করছিল। শেষ বল পর্যন্ত বলা যাচ্ছিল না কারা জিতবে ফাইনাল। 

ম্যাচ টাই হওয়ার পর ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম সুপার ওভারও টাই।  তাহলে নিউজ্যিলান্ড-ইংল্যান্ডের ফাইনালর শিরোপা নির্ধারণ হবে কিভাবে? আইসিসির ‘অদ্ভুতুড়ে’ নিয়ম! বাউন্ডারির হিসেবে ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন।   সুপার ওভারসহ ইংলিশদের বাউন্ডারি ছিল মোট ২৬টি, নিউজিল্যান্ডের ১৭টি। লর্ডসে হৃদয় ভাঙে কেন উইলিয়ামসনদের।  অমরত্বের স্বীকৃতি পান মরগ্যানরা।

দুই দিনের সেমিফাইনাল :

ওয়ানডে ক্রিকেটে নট আউট থেকে ব্যাটসম্যান ফিরলেন সাজঘরে! নাহ, ইনিংস শেষ হয়নি।  দিন শেষ হয়েছে? কিভাবে সম্ভব।  ম্যানচেস্টারে বৃষ্টিবিঘ্নিত সেমিফাইনাল হয়েছিল দুই দিনে।  প্রথম দিন নট আউট থেকে সাজঘরে ফিরেছিলেন রস টেলর ও টম লাথাম।  আলো ঝলমলে পরের দিন একই জায়গা থেকে দিনের খেলা শুরু করেন দুই ব্যাটসম্যান।  বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি হয়েছিল দুই দিনে।

স্পেশাল স্টার্ক :

ম্যাকগ্রাকে ছাড়িয়ে মিচেল স্টার্ক গড়েছেন ইতিহাস। বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার নতুন রেকর্ড গড়েছেন এ বাঁহাতি পেসার। ২৭ উইকেট নিয়ে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যান অসি এ পেসার। ২০০৭ বিশ্বকাপে ২৬ উইকেট পেয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি ম্যাকগ্রা।

সেরা ক্যাচ :

বিশ্বকাপের শেষটা রাঙিয়েছেন বেন স্টোকস।  শুরুতেও মুগ্ধ করেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার।বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ডিপ মিড উইকেটে শূন্যে লাফিয়ে যে ক্যাচ স্টোকস ধরেছিলেন তা ছিল দুর্দান্ত।  নিখুঁত টাইমিং, গ্রেট স্কিল।  বিশ্বকাপর সেরা ক্যাচের পুরস্কার তার হাতেই উঠবে।

রোহিত ম্যাজিক :

পাঁচ সেঞ্চুরিতে দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারেননি রোহিত শর্মা।  ঠিকই পড়ছেন পাঁচ সেঞ্চুরি।  বিশ্বকাপের এক আসরে পাঁচ সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যান তিনিই। ২০১৫ বিশ্বকাপে কুমার সাঙ্গাকারার চার সেঞ্চুরি ছিল আগের রেকর্ড। দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে রোহিতের সেঞ্চুরি হয়েছে মোট ছয়টি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি নেই আর কারও। সমান ছয়টি সেঞ্চুরি আছে কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের। পাঁচ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে করেছেন ৬৪৮ রান।

রিয়েল অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান :

৬০৬ রান ও ১১ উইকেট, অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সাকিব আল হাসান বিশ্বকাপে নিজেকে নতুন করে পরিচিত করেন। বুক ভরা আত্মবিশ্বাস আর মাঠের ক্রিকেটে হার না মানা মনোবলে সাকিব হয়ে ওঠেন রিয়েল অলরাউন্ডার।  মনে হচ্ছিল টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাবেন সাকিব। কিন্তু শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে হৃদয় জেতা উইলিয়ামসন পান সেই পুরস্কার। তবুও সাকিব জায়গা করে নেয় সবার মনে।  বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হয়ে।

বোলিংয়ে আর্চারের ছক্কা!

ব্যাটসম্যানকে আউট করে ছক্কা।  এটাও সম্ভব? জোফরা আর্চার করে দেখিয়েছেন।  ডানহাতি পেসার বোল্ড করেছিলেন সৌম্য সরকারকে।  বল সৌম্যর উইকেটে লেগে চলে যায় বাউন্ডারিতে।  স্ট্যাম্পে আঘাতের পর কোথাও স্পর্শ করেনি বল।  হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে হয়ে যায় ছক্কা!

ডেডলি ইয়র্কার :

বিশ্বকাপের সেরা ডেলিভারির খেতাবটা স্টার্ককে না দিলে অন্যায় হবে।  মুখোমুখি লড়াইয়ে লর্ডসে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।  বেন স্টোকসকে থামিয়ে অসিরা পেয়েছিল জয়।  কিন্তু তাকে থামাতে কতটা কষ্ট করতে হয়েছে তা জানেন শুধু স্টোকস। টো এন্ডে ডেডলি ইয়র্কার।  বাঁহাতি পেসারের দ্রুততম বলে শেষ স্টোকস।

মরগ্যান ব্লাস্ট :

ছক্কার বিশ্ব রেকর্ড করেছেন ইংলিশ অধিনায়ক মরগান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৮১ বলে ১৪৮ রান করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।  মাত্র ৫৭ বলে স্পর্শ করেন সেঞ্চুরি। পুরো ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন মাত্র ৪টি, ছক্কা ১৭টি।  বিশ্বকাপে তো বটেই, ওয়ানডে ইতিহাসেই এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কার বিশ্ব রেকর্ড এটি।

কোহলি টু স্মিথ :

বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারিতে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন বিশ্বকাপ দিয়েই। ফেরার পর থেকেই তারা মাঠে ইংলিশ দর্শকদের দুয়োধ্বনি শুনেছেন পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে। ওভালে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচেও দুয়োধ্বনি শুনতে হয় স্মিথকে।  ভারতের ব্যাটিংয়ের সময় কিছু দর্শক স্মিথকে উদ্দেশ্য করে বারবারই ‘প্রতারক’ বলে চিৎকার করতে থাকেন ভারতীয় সমর্থকরা। ওই সময়ে উইকেটে থাকা কোহলি ব্যাপারটা মানতে পারেননি। নিজে গিয়েই দর্শকদের চুপ করতে বলেন। দুয়োর বদলে স্মিথকে সম্মান জানাতে বলেন তিনি। পরে দুজনের হাত মেলানোর দৃশ্যও দেখা যায়।বোল্ট ও সামির হ্যাটট্রিক :

ওয়ানডেতে তার একটি হ্যাটট্রিক ছিল ট্রেন্ট বোল্টের।  এবারে নিউজিল্যান্ডের প্রথম বোলার হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়েছেন বোল্ট।  লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যান উসমান খাজা, মিচেল স্টার্ক ও জেসন বেহরেনডর্ফকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বোল্ট। প্রথম দুজন বোল্ড, পরেরজন হন এলবিডব্লিউ। এরপর ভারতের পেসার মোহাম্মদ সামি আফগানিস্তানের বিপক্ষে পেয়েছেন হ্যাটট্রিক।  ইনিংসের শেষ ওভারে মোহাম্মদ নবী, আফতাব আলম ও মুজিব-উর-রহমাকে আউট করেন ভারতীয় পেসার।

মিস্টার ডট বল :

পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ ওভারে ৩৩ রানে ৩ উইকেট নেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার প্যাট কামিন্স।  ওয়ানডেতে যেকোনো পরিস্থিতিতেই দারুণ বোলিং নিঃসন্দেহে। তার চেয়েও বড় কথা, প্যাট কামিন্স ৬০ বলের ৪১টিই করেছেন ডট বল।

সেরা দর্শক :

দ্য গার্ডিয়ানের এক জরিপে উঠে এসেছে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দর্শকরা ছিলেন সবদিক থেকে পারফেক্ট। মাঠে উপস্থিতি, দলের জন্য সমর্থন, উল্লাস-উত্তেজনা, কর্তৃপক্ষকে সহায়তা; সবকিছু মিলিয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা এগিয়ে।  এজন্য যারা মাঠে গিয়েছেন তারা একটা ধন্যবাদ পেতেই পারেন।

প্রেসবক্সও হাউসফুল :

ইংল্যান্ডে আইসিসি ওয়ার্ল্ডকাপ ২০১৯ কাভার করতে ভারত থেকে যেমন অনেক সাংবাদিক এসেছেন। বাংলাদেশ থেকে সেই সংখ্যা কম নয়। ভারতীয়দের মতে, তাদের সংখ্যাটা ৬০-৭০-এ গিয়ে ঠেকেছে। বাংলাদেশের ৪৫-৫০।  তাইতো প্রেসবক্সেও লাল-সবুজের প্রতিনিধি কম ছিল না বিশ্বকাপে।

রাইজিংবিডি/লন্ডন/১৭ জুলাই ২০১৯/ইয়াসিন/আমিনুল

All rights and copyright belongs to author:
Themes
ICO