Bangladesh

বড় কোম্পানির সঙ্গে শেয়ারবাজারে আসছেন বিনিয়োগকারীরা

ডিএসই

বড় বড় কোম্পানি আসতে শুরু করেছে শেয়ারবাজারে। বড় কোম্পানির সঙ্গে আসছেন বড় বড় বিনিয়োগকারীও। শুধু তাই নয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর একের পর এক নেওয়া সিদ্ধান্তে আশার আলোও দেখছেন তারা। বাজারের চিত্রও বলে দিচ্ছে, আগামী দিনে আরও পরিচ্ছন্ন হয়ে অর্থনীতি চাঙা রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে এই শেয়ারবাজার।

দেশীয় ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ারের মাত্র দুই দিনের লেনদেনের তথ্যই বলছে, বড় কোম্পানির প্রতি মানুষের আগ্রহ, চাহিদা ও আস্থাও বেশি।  প্রথম দিনের প্রথম ট্রেডেই শেয়ারের দর বেড়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে। আইপিও লটারিতে পাওয়া ২৫২ টাকার শেয়ার প্রথম দিনে লেনদেন হয়েছে ৩৭৮ টাকায়। আর দ্বিতীয় দিনে মাত্র ১০ টাকার শেয়ারের দাম ৫৬৭ টাকায় উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওয়ালটন আসায় বাজার মূলধনও বেড়ে গেছে। যখন গ্রামীণফোন বাজারে এসেছিল তখনও মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল। এদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা শেয়ারবাজারে আসার অনুমোদন পেয়েছে। এই খবরে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়ে গেছে বলে মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোন অপারেটর রবির অনুমোদন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে। এ ধরনের বড় কোম্পানি বাজারে এলে সঙ্গে করে দেশি-বিদেশি নতুন অনেক বিনিয়োগকারী নিয়ে আসে। গ্রামীণফোনের বেলায় আমরা তেমনটি দেখেছি। এছাড়া বড় মূলধনী কোম্পানি হওয়ায় রবি শেয়ারবাজারে আসার পর বাজার মূলধনও অনেক বেড়ে যাবে।’  রবির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও অনুমোদন শেয়ারবাজারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলেও মনে করেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রামীণফোন তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে  ভালো কোনও কোম্পানি আর বাজারে আসেনি। তাই রবি শেয়ার বাজারের তালিকাভুক্ত হলে বাজার উপকৃত হবে।

বাজারের তথ্য বলছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহ শেষে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা,যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত সপ্তাহে ডিএসই’র বাজার মূলধন বেড়েছে ৯ হাজার ১৯ কোটি টাকা।

সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৯১৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় এক হাজার ১২৭ কোটি ৬ লাখ টাকা।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৫৭৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। তার আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ৫ হাজার ৬৩৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে এক হাজার ৬১ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

এদিকে বাজারের প্রতি আস্থা বাড়াতে এ পর্যন্ত দুই ডজনের বেশি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন কোম্পানিকে জরিমানাও করা হয়েছে। একইসঙ্গে কারসাজি ঠেকাতে এ পর্যন্ত শুনানিতে ডাকা হয়েছে ২২ কোম্পানিকে। জালিয়াতির ঘটনায় বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবও বন্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে শেয়ারবাজারে তারল্য বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকও বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে, যার ফলে বাজার গতিশীল হয়েছে। পুঁজিবাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেড় মাস ধরে বাজার কিছুটা গতিশীল। বাজারের সূচকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। ৩০০ কোটি টাকার লেনদেন হাজার কোটি ছাড়িয়েছে, সূচক ছাড়িয়েছে পাঁচ হাজারের কোঠাও।

তবে দুর্বল কোম্পানির দৌরাত্ম্য বেড়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দুর্বল কোম্পানির দৌরাত্ম্য বেড়ে যাচ্ছে, যা পুঁজিবাজারের জন্য বিপজ্জনক।’ দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার কারণে পুঁজিবাজারের সূচকও বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। এখনই দুর্বল কোম্পানির দৌরাত্ম্য থামানোর জন্য বিএসইসিকে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক ও সাবেক সভাপতি মো. রকিবুর রহমান বলেন, ‘বাজার এখন গতিশীল হয়েছে। এই সময়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে ‘জেড’ ক্যাটাগরি ও নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ঊর্ধ্বমুখী বাজারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। তাদের অনেকে কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল তথ্য কিংবা বর্তমান পারফরমেন্স কী, তা না জেনেই গুজবে কান দিয়ে বা হুজুগে পড়ে শেয়ার কেনা-বেচা করেন। বিনিয়োগকারীদের এই অভ্যাস পরিহার করার পরামর্শ দেন তিনি।

অবশ্য টানা ১৩ সপ্তাহ ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে কিছুটা দরপতন হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় সবকটি মূল্য সূচকের পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

এদিকে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১২৫ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এর আগে টানা ১৩ সপ্তাহের উত্থানে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক বাড়ে এক হাজার ১৪১ পয়েন্ট।

প্রধান মূল্য সূচকের পাশাপাশি ১৩ সপ্তাহ পর পতন হয়েছে ডিএসইর শরিয়াহ সূচকও। শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত এ সূচকটি গত সপ্তাহে কমেছে ৩৬ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট। এর আগে টানা ১৩ সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ২৪৫ পয়েন্ট।

বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইর ডিএসই-৩০ সূচকটি গত সপ্তাহে কমেছে ৬০ দশমিক ৪০ পয়েন্ট। আগের ৯ সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৩৯২ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২২৪টির। আর ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

Football news:

👏 The whole world is talking about Khabib's departure and congratulates him on his victory. They demand the first place in the rating for him and respect the desire to be with his family
Klopp Pro 2:1 with Sheffield: Wins 2:0 or 3:0 come when you fight fiercely in games like this
Messi repeated his worst streak - 6 games without goals to Real Madrid
Schalke are 21 consecutive games unbeaten in the Bundesliga and are in penultimate place
Ronaldo - Khabib: Congratulations, bro. Your father is proud of you 🙏
Suarez shares 1st place in The La Liga goalscoring race with Fati and Paco, scoring 5 (4+1) points in 5 games
Real Madrid beat Barcelona by wins in full-time official matches-97 vs 96