logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo
star Bookmark: Tag Tag Tag Tag Tag
Bangladesh

এক বাড়ি এক অ্যারোসল প্রচারসর্বস্ব এক প্রহসন

ডেঙ্গু রোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন উদ্যোগ এসিআই অ্যারোসল বিতরণ কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক হাস্যরস সৃষ্টি হয়েছে। নগরবাসী এ উদ্যোগকে বলছেন, নগরবাসীর সঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রচারসর্বস্ব আরও একটি প্রহসন বৈ কিছু নয়।
ডেঙ্গু আতঙ্কে ভুগছেন দেশবাসী। বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, রাজধানী থেকে এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে তাদের বেশকিছু পরামর্শ ছিল। কিন্তু সেসব পরামর্শ উপেক্ষা করায় দেশের প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গুজ্বর। ডেঙ্গুর ভাইরাসবাহী এডিস মশা নিধনে ব্যর্থতার জন্য ইতোমধ্যে বিস্তর সমালোচনা হয়েছে এ রোগের উৎসস্থল রাজধানীর দুই নগর কর্তৃপক্ষের। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এডিস মশা নিধনে নানা উদ্যোগ নিলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। সর্বশেষ ডেঙ্গুরোধে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে কেনা হয়েছে মশা
নিধনে বাজারচলতি ওষুধ এসিআই কোম্পানির অ্যারোসল। নগর ভবনের প্রভাবশালী এক ঠিকাদার অ্যারোসল সরবরাহের কাজ পেয়েছেন। তিনি মেয়রের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। জানা গেছে, ৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা দুই লাখ স্প্রে ক্যান ঢাকা দক্ষিণের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিলি করা হবে। এ ছাড়া প্রতিটি বাড়ির মালিককে একটি করে ক্যান দেওয়া হবে। ৪৭৫ মিলিলিটারের এসব ক্যানের গায়ে ওপরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সিলযুক্ত লোগো রয়েছে। আর নিচে বড় বড় হরফে লেখাÑ ‘পরিষ্কার রাখুন/সচেতন থাকুন/সুস্থ থাকুন’। এর নিচে লেখাÑ ‘মেয়র সাঈদ খোকন’। নগরবাসী বলছেন, এসব ক্যান বিতরণ মূলত ডিএসসিসির প্রচারসর্বস্ব একটি উদ্যোগ। এগুলো ডেঙ্গু নিধনে কার্যকর হবে না।
একটি বাড়িতে যতগুলো পরিবারই থাকুক না কেন, শুধু বাড়িওয়ালাকে একটি করে ক্যান দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়েও সমালোচনা চলছে নগরবাসীর। তাদের প্রশ্ন, তাহলে কি ভাড়াটিয়ারা সিটি করপোরেশনের নাগরিক নন? এ ছাড়া আড়াইশ টাকার একটি ক্যানের জন্য যেতে হবে গুলিস্তানের নগর ভবনে। সময় ও গাড়িভাড়া খরচ করে সেখানে গিয়ে প্রমাণপত্র দেখানো এবং নানা আনুষ্ঠানিকতার পর একটি ক্যান পাওয়া যাবে। প্রশ্ন হচ্ছে, অর্থ ও সময় ব্যয় করে আড়াইশ টাকা দামের একটি ক্যান পেতে কে যাবে এত যন্ত্রণার মধ্যে? কাজেই পুরো বিষয়টি নগরবাসীর সঙ্গে কর্তৃপক্ষের এক ধরনের প্রচারসর্বস্ব প্রহসনমাত্র।
ডিএসসিসিতে খবর নিয়ে জানা গেছে, ক্যান বিতরণ অভিযান গত ২৯ জুলাই শুরু হলেও এ পর্যন্ত মাত্র ৩০ হাজারের মতো ক্যান বিতরণ হয়েছে, তা-ও মেয়র নিজে প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিতরণ করেছেন বলে ৩০ হাজার ক্যান বিতরণ হয়েছে। নয়তো সবই পড়ে থাকত ডিএসসিসিতে। এক কথায়, কর্তৃপক্ষের এ অভিযানে সাড়া দেয়নি নগরবাসী।
এসব ক্যান খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা দরে। আর চকবাজার ঘুরে দেখা গেছে এগুলোর পাইকারি দর ২৫০ টাকা। এসিআইয়ের এক ডিলারও আমাদের সময়কে বলেছেন, স্বল্পমেয়াদি অ্যারোসল ক্যানের পাইকারি দর ২৪৫ থেকে ২৫০ টাকা।
ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৯ জুলাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ক্যান বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মেয়র সাঈদ খোকন। সেদিন সূরিটোলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের হাতে স্প্রের কার্টন তুলে দেন তিনি। এর পর ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও মহানগর মহিলা কলেজে এমন অনুষ্ঠান করে স্প্রে ক্যান বিতরণ করা হয়। এর পর রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও খতিবদের নিয়ে নগর ভবনের এক এক অনুষ্ঠানে ক্যাণ বিতরণ করা হয়। এ সময় ইমাম ও খতিবদের দুই-তিনটি করে ক্যান দেওয়া হয় করপোরেশনের পক্ষ থেকে।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, সংস্থাটির আওতাধীন ১ লাখ ৬৩ হাজার হোল্ডিং মালিক, ৭৬৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৭৭৫টি মসজিদের জন্য দুই লাখ মশার অ্যারোসল ক্যান কেনা হয়েছে। তবে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩০ হাজারের মতো ক্যান বিতরণ করা হয়েছে। এর পর আরও কিছু ক্যান বিতরণ হলেও তা এখনো হিসাব করা হয়নি। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে কেউই কথা বলতে সম্মত হননি। অ্যারোসেল ক্রয় ও গ্রহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভা-ার ও ক্রয় কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেনের কাছে গত মঙ্গলবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও মুখ খোলেননি।
বর্তমানে স্প্রে ক্যানগুলো নগর ভবনের ভা-ার বিভাগের সামনে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কত দিনে ক্যান বিতরণপর্ব শেষ হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নগর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউই বলতে পারছেন না। করপোরেশনের বিভিন্ন আঞ্চলিক অফিসগুলোয় অ্যারোসলের ক্যান পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও গত বুধবার পর্যন্ত সব আঞ্চলিক কার্যালয়ে ক্যান পৌঁছেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্যান বিতরণের দায়িত্বে থাকা প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার গত মঙ্গলবার আমাদের সময়কে বলেন, ত্রিশ হাজার পিস পর্যন্ত বিতরণের হিসাব আছে। এর পরও হয়েছে। তবে তা এখনো হিসাব করিনি। বাকি তথ্যের জন্য তিনি ক্রয় ও ভা-ার কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

All rights and copyright belongs to author:
Themes
ICO