Bangladesh

হেফাজতের অশান্তির পেছনেও বিদেশি মদত স্পষ্ট

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে ঘিরে অশান্তির পেছনে বিদেশি মদত রয়েছে। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই প্রত্যক্ষভাবেই জড়িত। তাদের অর্থায়নেই মৌলবাদীরা অশান্তি বাধাবার চেষ্টা করে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবর বিশ্লেষণ করলে এটা আরো স্পষ্ট হচ্ছে। হেফাজতের হুজুরদের সঙ্গে জামায়াতেরও যোগ রয়েছে। তাই বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা মোদির নাম না জেনেই হুজুরদের পরামর্শে নিজেদের জীবন বাজি রেখে অশান্তি ছড়াতে শুরু করে। ১৯৭১-এর পাকিস্তানি সেনার গণহত্যার চর্চা বন্ধ রাখতেই আইএসআইর চেষ্টা। তাই ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরে নির্বিঘ্নে মিটলেও বাংলাদেশের উন্নয়নের বিরোধীরা এবার দেশের ইমেজকে ধূলিসাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। কড়া হাতে মৌলবাদীদের দমন না করতে পারলে বাংলাদেশের সামনে আরো বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের নির্দেশে অশান্তিতে অংশ নেয়া ছাত্ররা অনেকেই জানে না নরেন্দ্র মোদি খায়, না মাথায় দেয়! নামটুকুই বড়জোড় শুনেছে। কিন্তু তাদের কানে বিষ ঢেলে দিয়ে হুজুররাই পাঠায় লাইন উপড়ে ফেলতে। গাড়িতে আগুন ধরাতে। হিন্দু মন্দিরে আক্রমণ শানাতে। তাদের বোঝানো হয়, মোদি বিরোধিতাই হলো তাদের ইমানি দায়িত্ব। এটা পালন করতে গিয়ে প্রাণ গেলে মিলবে জান্নাত। কওমি মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংয়ের ছেলেরা হুজুরদের কাথাতেই ঝাঁপিয়ে পড়েন অশান্তি বাধাতে। তারা নিজেরাই সাংবাদিকদের বলেছে, মোদি কে তা তারা জানে না। হুজুররা বলেছে, তাই তারা করেছে। কারণ হুজুররাই তো তাদের মা-বাপ! কিন্তু হুজুররা কেন বলল, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য এখন অনেকেরই জানা। বাংলাদেশ ছাত্র লীগের সভাপতি আল নাহিন খান জয় আগেই বলেছেন, ঢাকাস্থ পাকিস্তানি দূতাবাস ভারতবিরোধী কার্যকলাপের জন্য গোপনে টাকা দিচ্ছে হেফাজতকে। মোদি বিরোধিতাতেও টাকা দেয়া হয়েছে পাকিস্তানি দূতাবাস থেকে। আসলে বাংলাদেশের স্থিতিশীল উন্নয়ন চায় না পাকিস্তান। একাত্তরের পরাজয়ের স্মৃতি আজো ভোলেনি ইসলামাবাদ। তাই সেদিনের বর্বরতার জন্য তারা ক্ষমা চায়নি আজো। শুধু তাই নয়, মুখে বন্ধুত্বের কথা বললেও সর্বতোভাবে বাংলাদেশের ক্ষতিসাধনই তারা করে চলেছে। তাই হেফাজতের মতো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে দেশটির সর্বনাশের জন্য। আর হেফাজত তো গঠিতই হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধ্বংস করার জন্য। তাই ২৬ মার্চ জুমার নামাজের পরই শুরু হয় মোদি বিরোধিতার নামে ডাণ্ডব। বিবিজি নামিয়ে কড়া হাতে অবশ্য পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ফের বুঝিয়ে দেয়া হয়, দেশের স্বাধীনতা আদায়ে মুক্তিযোদ্ধারা যে রক্ত ঝরিয়েছে, সেটাকে ব্যর্থ হতে দেবে না জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশে অশান্তি বাধানোর পেছনে পাকিস্তানি মদতের বিষয়ে নিশ্চিত জাতীয় সংসদের বহু সদস্যই। অনেকেই এর জন্য সামাজিক গণমাধ্যম পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইকে দায়ী করেছে। জাতীয় সংসদও মন্তব্য করেছে, পাকিস্তানি স্পাই আইএসআই ভারতবিরোধী প্রচারে ইসলামি মৌলবাদীদের হাতিয়ার করেছে। পাকিস্তানকে বলা হয়েছে, দুনিয়ার সন্ত্রাসীদের আশ্রয়দাতা। জাতীয় সংসদের টুইটার হ্যান্ডেল থেকেই প্রকাশিত অনুবিবৃতি থেকেই স্পষ্ট মোদির সফরকে ঘিরে বাংলাদেশে ফের অশান্তি বাধানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত পাকিস্তান। আর তাদের হয়ে কাজ করছে হেফাজতের পাশাপাশি জামায়াতের লোকজনও। কওমি মাদ্রাসার হুজুররা ব্যস্ত নাবালক ছাত্রদের মগজধোলাইয়ে। ভারত বিরোধিতার নামে আসলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকেই অপদস্ত করার জঘন্য চক্রান্ত চলছে আন্তর্জাতিক স্তরে। গত বছর ডিসেম্বরে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানি হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীকে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ১৯৭১-এ পাকিস্তানি বর্বরতা ও গণহত্যাকে ভুলতে পারে না বাংলাদেশ। কিন্তু ডনসহ পাকিস্তানি গণমাধ্যম সেই খবর ছাপেনি। পাকিস্তানকে একাত্তরের বর্বরতার জন্য রেয়াত করার প্রশ্নই নেই। বরং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তিদান প্রক্রিয়া শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুদ্ধাপরাধীদের ট্রাইব্যুনালের বিরোধিতা করা রয়েছে হেফাজতের ১৩ দফা দাবিতে। এটাও হয়েছে পাকিস্তানি মদতেই। হেফাজত বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকেও ধ্বস করতে চায়। তাদের দাবি ইসলামিক শিক্ষাই শুধু দেয়া হোক সবাইকে। গণিত বা বিজ্ঞানের দরকার নেই। বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্ন আজো দেখে চলেছে কেউ কেউ।
হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচকেও বাংলাদেশের অগ্রগতি অব্যাহত। রেডিমেড পোশাকে চীনের পরই বাংলাদেশ। দেশের ১৭ কোটি মানুষের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। আর সেই মুুক্তিযুদ্ধের দিন থেকে সবকিছুতেই বাংলাদেশের পাশে থাকছে ভারত। করোনা অতিমারির সময়েও ভারত বন্ধুত্বের বার্তা দিতে ভোলেনি। মৌলবাদীরা এখন বলতে শুরু করেছেন মোদি ও তার দল বিজেপি মুসলিমবিরোধী। বাবরি মসজিদ ধ্বংস করেছে তারা। বিষয়টি ভারতের পুরোপুরি অভ্যন্তরীণ। ২০১৫ সালেও মোদি বাংলাদেশ সফর করেন। তখন কিন্তু এই বিরোধিতা হয়নি। বাংলাদেশি মৌলবাদীদের হঠাৎ করে মোদি বিরোধিতার এত আগ্রহের কারণটাই হচ্ছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে পাকিস্তানপন্থি রাজাকার বা তাদের উত্তরসূরিরা আজো মেনে নিতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের আবেগ ও উচ্ছ্বাস তাদের সহ্য হচ্ছে না। তাই দেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাদের অর্থায়নেই অশান্তি সৃষ্টি করছে।
সবারই জানা আছে, দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসীদের আর্থিক মদতদাতা দেশটির নাম পাকিস্তান। জামায়াতের সঙ্গে আইএসআইয়ের যোগাযোগ বহুদিনের। হেফাজতের সঙ্গেও রয়েছে। জামায়াতের মতো সন্ত্রাসী দল না হলেও হেফাজতও চায় বাংলাদেশে ইসলামি শাসনের নামে পাকিস্তানি আধিপত্য। তাই মোদির বাংলাদেশ সফরকালে দেশজুড়ে অশান্তি চালায় তারা। হেফাজত সামনে থাকলেও পেছনে জামায়াতের হাত ছিল। ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বকে হাতিয়ার করে উভয় পারের মানুষের উন্নয়ন তারা চায় না। তাই ধর্মের নামে অশান্তি চাইছে তারা। পাকিস্তানি অর্থে নিজেদের দেশেই অনর্থ বাধাতে সচেষ্ট কুচক্রীদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর হতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে। নইলে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে পরিস্থিতি। আইএসআই ফের ব্যস্ত হয়ে উঠছে বাংলাদেশকে অশান্ত করার যড়যন্ত্রে। তাই শুধু মোদি বিরোধিতা হিসেবে সাম্প্রতিক অশান্তিকে দেখলে মারাত্মক ভুল হবে। বাংলাদেশকে ফের বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়ার গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ লুকিয়ে আছে মোদিবিরোধী অশান্তির পেছনে। তাই সতর্ক হতেই হবে সবাইকে।

নোমান হোসাইন : শিক্ষানবিশ সাংবাদিক ও লেখক।

Football news:

Griezmann spoke with Hamilton and visited the Mercedes boxes at the Spanish Grand Prix
Barcelona feels that Neymar used it. He said that he wanted to return, but extended his contract with PSG (RAC1)
Aubameyang to the Arsenal fans: We wanted to give you something good. I am sorry that we could not
Atletico did not lose at the Camp Nou. Busquets' injury is the turning point of the match (and the championship race?)
Verratti injured his knee ligaments in PSG training. Participation in the Euro is still in question
Neymar's contract in one picture. Mbappe wants the same one
Manchester United would like to sign Bellingham in the summer, not Sancho. Borussia do not intend to sell Jude