Bangladesh

কনডেম সেল থেকে বাবাকে ফোন, অঝোরে কাঁদলেন মিন্নি

রায়ের পর কারাগারে নেওয়ার পথে মিন্নি (বুধবারের ছবি) 
বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় নিহতের স্ত্রী হিসেবে সাক্ষী ছিলেন, সেখান থেকে মামলার আসামি হয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি বরগুনা জেলা কারাগারের কনডেম সেল থেকে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের মুঠোফোনে কল দিয়ে অঝোরে কেঁদেছেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বরগুনা জেলা কারাগার থেকে পিতা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের সাথে মুঠোফোনে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

বরগুনা জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালীন সময় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ও করোনা মহামারির হাত থেকে আসামিদের বাঁচাতে বরগুনা জেলা কারাগারে দেখা করার পরিবর্তে সপ্তাহে একবার ৫ মিনিট করে স্বজনদের সাথে কথা বলার সুযোগ চালু করা হয়েছে। মিন্নি প্রথম দিনেই তার বাবার সাথে ৫ মিনিট কথা বলেছেন। এসময় তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথেও কথা বলেন। তবে বাবার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, সকাল ১০টার দিকে মিন্নি আমার ও আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছে। সে খুব কান্নাকাটি করেছে। কারাগারে ভালো নেই মিন্নি। তাকে একা একটি নির্জনকক্ষে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমার মেয়ে নির্দোষ। একটি কুচক্রীমহল ষড়যন্ত্র করে আমার মেয়েকে এই মামলায় ফাঁসিয়েছে। একটি প্রভাবশালী মহলকে আড়াল করার জন্যই এটা করা হয়েছে। আমি রায়ের কপি পাওয়ার আবেদন করেছি। এটি হাতে পেলে দ্রুত উচ্চ আদালতে এই  রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। আমি আশাবাদী আমার মেয়ে উচ্চ আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হবে।

আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি

গত বছরের ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে বন্ড বাহিনী কুপিয়ে হত্যা করে রিফাত শরীফকে। ওই হত্যাকাণ্ড সারা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। বন্ড বাহিনীর হোতা নয়ন বন্ড ও অন্যরা প্রকাশ্যে রাম দা দিয়ে শাহনেওয়াজ রিফাতকে (রিফাত শরীফ) কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এসময় মিন্নিকে আসামিদের রামদার মাঝখানে দাঁড়িয়ে বারেবারে আটকানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেলেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন রিফাত শরীফ।

ঘটনার পরদিন ২৭ জুন রিফাতের বাবা মো. আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ একে একে গ্রেফতার করে এজাহারভুক্ত আসামিদের। রিফাতের ওপর হামলার ছয়দিন পর ২ জুলাই ভোর রাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন এ মামলার আলোচিত প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড। পরে ভিডিও, অডিওসহ বিভিন্ন ডক্যুমেন্ট ও সাক্ষ্যের মাধ্যমে এ মামলার সাক্ষী মিন্নিকে হত্যার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিহিত করা হয়। সাক্ষী থেকে আসামি হয়ে যান মিন্নি।

রিফাত হত্যাকাণ্ডের দুই মাস ছয়দিন পর গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে দুটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এদের মধ্যে ১০জন প্রাপ্তবয়স্ক আসামি এবং ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিচারিক কার্যক্রম শুরুর জন্য ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত চার্জ গঠন করেন। গত ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলার ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষ হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর মিন্নিসহ ৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান।

Football news:

Barcelona are concerned about the shape of the Target. The club believes that he did not work enough on vacation
Laporte was supported by van Dyck: Sorry, bro. No joy, even though we are rivals
Lautaro Martinez: Messi is the best in the world. He is always one step ahead of the rest
The Atletico stadium was painted pink as part of the campaign to fight breast cancer
Frank Lampard: nothing comes easy in the Champions League. This is a great platform to learn new things
Ronaldo was not included in the Juve bid for the match against Dynamo Kyiv
Bruno on the role of captain: I didn't expect it. Tomorrow it's not about me, it's about the team. Everyone should be a leader