Bangladesh

কোভিড-১৯: কিছু প্রশ্নের জবাব - পর্ব ২

ঘরে বাইরে এখন নতুন করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ নিয়ে হাজারো প্রশ্ন। সাধারণের সেসব কৌতুহল মেটাতে এসব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বিজ্ঞান বিষয়ক সাংবাদিক ড. মাইকেল মোসলি। ১৯৮৫ সাল থেকে বিবিসিতে সাংবাদিক, প্রযোজক এবং উপস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন তিনি। টেলিভিশনে বায়োলজি ও মেডিসিন বিষয়ক প্রোগ্রামের উপস্থাপনার জন্যও তিনি সুপরিচিত। কোভিড-১৯ ভাইরাস বিষয়ে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। বিজ্ঞানচিন্তার পাঠকদের জন্য সেখান থেকে বাছাই করা কয়েকটি উত্তর প্রকাশ করা হল।

 

কোভিড-১৯ কীভাবে ছড়ায়?

কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার প্রধান মাধ্যম কাশি বা হাঁচি। আপনার কোভিড-১৯ হয়ে থাকলে এবং ট্রেন, বাস বা দোকানে থাকার সময় কাশি দিলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ড্রপলেটের ভেতর থাকা লাখ লাখ ভাইরাস আপনার নাক ও মুখ থেকে স্প্রের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এর কিছু অংশ বাতাসে ভেসে থাকে আর বেশিরভাগ পড়ে থাকে মেঝে বা পাশের পৃষ্ঠতলগুলোতে। আপনি যদি নিজের হাত দিয়ে কাশি আটকান আর এরপর ওই হাত দিয়ে দরজা খোলেন বা শপিং কার্ট ঠেলেন, তাহলে লাখ লাখ ভাইরাস সেগুলোতে লেগে যাবে। এরপর সেখানে অন্য কেউ এসে আপনার ব্যবহৃত শপিং কার্ট ব্যবহার করলে সেগুলো লেগে যাবে তাদের হাতেও। ভালোভাবে হাত না ধুয়ে নিজেদের নাক স্পর্শ করলে বা চোখ ডললে কোভিড-১৯-এ সংক্রমিত হবে তারা।

গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরের ভেতর কোভিড-১৯ ভাইরাস বেশ কয়েক ঘন্টা প্লাস্টিক বা শক্ত কোন পৃষ্ঠতলে টিকে থাকতে পারে। কাজেই দরজার হাতল, এটিএম মেশিন বা সুপার মার্কেটে লেনদেন করার সময় আপনার কাছে ভাইরাসটি চলে আসতে পারে। তাই যেখানেই যান না কেন, বাড়িতে ফিরে ভালোভাবে হাত ধুয়ে ফেলা উত্তম।

 

কোন সব জায়গায় সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি?

বাড়িতে থাকা অবস্থায় সংক্রমিত হওয়ার বেশি আশঙ্কা থাকে বাইরে থেকে বাড়িতে আসা বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের কোন সদস্যদের কাছ থেকে। এর কারণ হল, বাড়িতে থাকার সময় মুখোমুখি যোগাযোগের সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি।

এরপরের সংক্রমিত হওয়ার বেশি আশঙ্কাজনক জায়গা হল, যেখানে চারপাশে অন্য লোকজনের আনাগোনা আছে। যেমন বার বা রেস্টুরেন্ট, গণপরিবহন ও অফিস। আবার কোভিড-১৯-এর সম্ভাব্য মৃত্যু ফাঁদ হতে পারে গির্জার মতো ধর্মীয় স্থানগুলোও।

চীনের গবেষকরা দেখিয়েছেন, ভাইরাসটি কত সহজে রেস্টুরেন্ট থেকে ছড়িয়ে যেতে পারে। নিচের ছবিতে চীনের গুয়াংজুতে এক রেস্টুরেন্টের একটা মাত্র ঘরের লেআউট তুলে ধরা হয়েছে। যে লোকটিকে আমি A1 দিয়ে চিহ্নিত করেছি, ২৪ জানুয়ারি তার মধ্যে রোগের কোন লক্ষণ ছিল না। উহান থেকে বিমানে চড়ে গুয়াংজুতে গিয়ে তার পরিবারের সাথে দুপুরের খাবার খান তিনি।

ওই দিন সন্ধ্যায় অসুস্থ বোধ করায় স্থানীয় এক হাসপাতালে যান তিনি। পরীক্ষার পর তার কোভিড-১৯ পজেটিভ পাওয়া গেল। এক সপ্তাহের মধ্যে তার পরিবারের আরও চার সদস্যকে পরীক্ষা করে কোভিড-১৯ পজেটিভ পাওয়া যায়। সেই সাথে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয় ওই রেস্টুরেন্টে সেদিন একই সময় B ও C টেবিলে বসা আরও পাঁচজনের দেহে।

 রেস্টুরেন্টটির বাতাস চলাচল ব্যবস্থাটা ছিল বেশ ভালো। সেখানে একটা এয়ার কন্ডিশনার ও একটা এক্সট্র্যাক্টর ফ্যান ছিল। E ও F টেবিলে বসা কেউ সংক্রমিত হয়নি বলে মনে করা হয়। এর কারণ সম্ভবত মূল বাতাস প্রবাহের বাইরে ছিল তারা।

 

1

 

আরেকটি চমকপ্রদ গবেষণা চালানো হয়েছে এক কর্মব্যস্ত কল সেন্টারে। দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকরা এতে দেখান, মাত্র একজন অ্যাসিম্পটোমেটিক (সংক্রমণ সত্ত্বেও যার কোন লক্ষণ দেখা যায় না) কর্মী কীভাবে অন্য প্রায় ১০০ জনকে সংক্রমিত করেছিলেন। এই তদন্ত শুরু হয়েছিল, একটা ১৯ তলা অফিস বিল্ডিংয়ে কর্মরত এক ব্যাক্তি কোভিড-১৯-এ সংক্রমিত হওয়ার পর। কোরিয়ার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (কেসিডিসি) তখন কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ল। শুরুতেই বিল্ডিংটা বন্ধ করে দিল তারা। এরপর একটা দল পাঠিয়ে, ওই বিল্ডিংয়ে যারা কাজ করেছিল বা যারা সেখানে পরিদর্শনে এসেছিল তাদের সবাইকে পরীক্ষা করে দেখা হল।

১১৪৩ জনের গতিবিধি অনুসরণ করে ও তাদের পরীক্ষা করে দেখে তারা। এর মধ্যে ৯৭ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ পাওয়া গেল। তাদের মধ্যে আবার ৯৪ জন কাজ করতেন ওই বিল্ডিংয়ের ১১ তলায়। আসলে এতে দেখা গেল, বিল্ডিংয়ের ওই তলাতে কাজ করা প্রায় অর্ধেকই ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়েছে। তাদের প্রায় সবাই একটা মাত্র ঘরে কাজ করত (নিচের ছবি দেখুন। যারা সংক্রমিত হয়েছিল তাদের কালো সিটগুলো দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে)।

দ্রুত পরীক্ষা আর আইসোলেশনের মাধ্যমে এই নিদিষ্ট প্রাদুর্ভাব প্রায় অচিরেই থামিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল।

 

2

 

গণপরিবহন কিংবা কোন রেস্টুরেন্টে ঢোকার আগে লোকজনকে তাপমাত্রা পরীক্ষা করে দেখার বিষয়টি কী?

দেহের তাপমাত্রা পরীক্ষার ওপর নির্ভর করার সমস্যা হল, অনেকেই সংক্রমিত হলেও তাদের দেহে কোন লক্ষণ দেখা যায় না। এমনকি দেহে লক্ষণ দেখা দিলেও তার জ্বর নাও থাকতে পারে। কাজেই তাপমাত্রা পরীক্ষার মাধ্যমে আসলে কোভিড-১৯ আক্রান্ত প্রায় অর্ধেক মানুষ পার পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আরেকটি বিষয় হল, কারও দেহের তাপমাত্রা সঠিকভাবে মাপার জন্য দরকার থার্মোমিটার। স্ক্যানার দিয়ে ত্বকের তাপমাত্রা মাপা যায়, যা অনেক সময় দেহের মূল তাপমাত্রার চেয়ে আলাদাও হতে পারে। আপনার যদি হট ফ্লাশ (আকস্মিক আবেগ, উত্তেজনা) হয় কিংবা রোদের মধ্যে দিয়ে হেঁটে আসেন, তাহলে স্ক্যানার টেস্ট ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

আমি কি রাস্তায় হাঁটতে যেতে পারি?

রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে আপনার পাশ দিয়ে যাওয়া অন্য কারও কাছ থেকে দুর্ভাগ্যক্রমে ভাইরাস আপনার কাছে চলে আসার ঝুঁকি থাকে। এটা নির্ভর করে, সংক্রমিত কেউ কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় আপনারা দুজন কতটা কাছাকাছি ছিলেন তার ওপর। বাইরে হাঁটতে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে হয়ত এর মুখোমুখি হতে পারেন। আবার মেঘাচ্ছন্ন দিনে অতিবেগুনি রশ্মির নিচে আসার কারণে আপনার ঝুঁকি কমেও যেতে পারে (কারণ এই রশ্মি ভাইরাস মেরে ফেলে)।

 

উষ্ণ আবহাওয়ায় কি কোভিড-১৯ ভাইরাসের বিস্তার কমে যায়?

ভাইরাস সাধারণত ঠান্ডা পছন্দ করে। সে কারণে কোন সংক্রমণ হলে আমাদের সাধারণত জ্বর হতে দেখা যায়। আমাদের দেহের মূল তাপমাত্রা বাড়ানোর মাধ্যমে ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর চেষ্টা চালানো হয়।

আগেই বলেছি, অতিবেগুনি রশ্মি বা আল্ট্রাভায়োলেট লাইটের সংস্পর্শে এলে কোভিড-১৯ ভাইরাস বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারে না। ন্যাশনাল বায়োডিফেন্স এনালাইসিস অ্যান্ড কাউন্ডারমেজারস সেন্টার পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, সরাসরি সূর্যালোক খুব দ্রুত এ ভাইরাস ধ্বংস করে ফেলে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি আন্ডারসেক্রেটারি বিল ব্রায়ান বলেছেন, ‘এ পর্যন্ত আমাদের সবচেয়ে বিস্ময়কর পর্যবেক্ষণ হল সূর্যের আলোর শক্তিশালী প্রভাব, যা ভূপৃষ্ঠে ও বাতাসে দুজায়গাতেই ভাইরাসটিকে মেরে ফেলতে পারে। একই ধরনের প্রভাব দেখা গেছে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার ক্ষেত্রেও। এক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বা দুটোই সাধারণত ভাইরাসটির জন্য কম অনুকূল।’

উজ্জ্বল সূর্যালোক যে ভাইরাস মেরে ফেলতে পারে, তার কারণ সূর্যের আলোতে অতিবেগুনি রশ্মি থাকে। ভাইরাসের ভঙ্গুর ডিএনএ বা আরএনএ ধ্বংস করে ফেলতে পারে এই রশ্মি। তার মানে এই নয় যে রৌদ্দজ্জ্বল কোন দিনে বাইরে গেলে আপনার এই ভাইরাসের সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে দোকান, রেস্টুরেন্ট বা অফিসের ভেতরের চেয়ে বাইরে সংক্রমণের আশঙ্কা কিছুটা কম।

কোভিড-১৯ যদি ফ্লুর মতো আচরণ করত, তাহলে শীতকালে এটি আরও খারাপ অবস্থার সৃষ্টি করবে।

 

বাইরে থাকার সময় আমরা কি মাস্ক পরে থাকা উচিত?

এটা অনেক বড় ব্যাপার। হাসপাতালের ভেতর যেতে চাইলে যথাযথ মাস্ক পড়া অবশ্যই জরুরী। কিন্তু আপনি যদি দোকানে যান, তাহলে কী করা উচিত? ভাইরাসটি প্রাথমিক বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিল চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের মতো দেশগুলো। এসব দেশের সাথে যেসব দেশ তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি, এই দুইয়ের মধ্যে একটা সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। কারণ প্রথম দেশগুলো জনগণকে বাইরে বের হলে মাস্ক পরতে উৎসাহিত করেছিল। এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৬০ শতাংশ মানুষকে যদি মাস্ক পরতে রাজি করানো যেত, তাহলে এটি একাই বৈশ্বিক মহামারী থামিয়ে দিতে পারত।

আসলে মাস্কগুলো খুব বেশি অত্যাধুনিক হওয়ার দরকার নেই। সম্প্রতি মুখের মাস্ক বিষয়ে এক বিস্তৃত পর্যালোচনা করেছেন প্রফেসর ত্রিস গ্রিনহ্যালহ এবং গবেষক বিজ্ঞানী জেরেপি হাওয়ার্ড। তারা সিদ্ধান্তে এসেছেন যে নিদেনপক্ষে পুরনো একটা টিশার্টের সাথে কিচেন পেপারজুড়ে দিয়ে বানানো একটা বেসিক মাস্কও যথেষ্ট ভালো হতে পারে।

বাড়িতে বানানো সাধারণ মাস্ক পড়লে ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে খুব যে বড় প্রভাব ফেলে তাও নয়। কারণ এগুলো মাস্ক পরা ব্যক্তিকে খুব বেশি সুরক্ষা দেয় না (কিছুটা হয়ত দেয়। বিশেষ করে কেউ যদি আপনার মুখের ওপর সরাসরি কাশি দেয়)। তবে এটা পরে থাকার কারণে সংক্রমিত কারও হাঁচি বা কাশি থেকে বেরিয়ে ড্রপলেটের চারপাশে ছড়িয়ে পড়ার পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দিতে পারে। হয়ত সেখান থেকেই অন্যদের কোভিড-১৯ হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারত।

ভাইরাসটির একটা সুপারপাওয়ার হলো, তাদের গলায় সংক্রমিত করার ক্ষমতা আছে। ফলে সংক্রমণ টের পাওয়ার আগেই যে কাউকে অতি ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্তারকারী বানিয়ে দিতে পারে তারা। মাস্ক পরে জনসম্মুখে গেলে এই ঝুঁকি কমে যেতে পারে অনেকটাই।

ত্রিস গ্রিনহ্যালহ ও জেরেমি হাওয়ার্ড উল্লেখ করেছেন, ‘আপনার কোভিড-১৯ হয়ে থাকলে এবং অন্য কারও কাছ থেকে আট ইঞ্চি দূরে যদি কাশি দেন, তাহলে তুলার মাস্ক পরে থাকলেও ওই ব্যক্তির কাছে ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার পরিমাণ ৩৬ ভাগ কমে যাবে।’

কাজেই একটা মাস্ক পরে থাকলে, আপনার পক্ষে অনেক মানুষের জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা থাকে। দুর্ভাগ্য হল, বেশিরভাগ মানুষ পরার্থপর নয়। পর্যাপ্ত সংখ্যক মানুষকে মাস্ক পরতে রাজি করানো সম্ভব না হওয়ার কারণে বেশিরভাগ দেশের সরকারকে সম্ভবত মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার দিকেই যেতে হবে। ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লুর প্রকোপের সময়ও এটি করতে হয়েছিল। সেবার মারা গিয়েছিল অন্তত ৫০ মিলিয়ন মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রেও সেসময় মাস্ক না পরে বাইরে বের হওয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে অনেকে মারা গিয়েছিল। মাস্ক ছাড়া কাউকে দেখলে গুলি করে মারা হত। এতেও অনেক মানুষ রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।

আপনি যদি নিজেই নিজের মাস্ক বানিয়ে নেন, তাহলে এমন শক্তভাবে বোনা কোন কাপড় বেছে নেওয়া ভালো হবে, যার মধ্যে দিয়ে অনায়াসে শ্বাস-প্রশ্বাস চালিয়ে নেওয়া যায়। নিজের জন্য সহজ-সরল মাস্ক বানানোর জন্য এবং মাস্ক বানানো ও পরিস্কার জন্য যা যা দরকার তার জন্য ওয়েবসাইটে ঢুঁ মেরে দেখতে পারেন https://masks4all.co/how-to-make-a-homemade-mask।

 

চলবে...

Football news:

England will remove players who intentionally cough at opponents and referees
Manchester City showed a new away form
The Icelandic national team presented their home uniforms for the 2020/21 season
In 1999, Arsenal beat Sheffield in the Cup, but Wenger offered to replay the match – because Kanu violated fair play
Milan and Napoli are Interested in Godfrey. Norwich wants 30 million euros for the defender
Wenger named the Champions League favourites: Manchester City and PSG
Manchester United are preparing an official offer for Sancho. Borussia demands 120 million euros