logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo
star Bookmark: Tag Tag Tag Tag Tag
Bangladesh

মৌলভীবাজারে হাজারের বেশি পশুর চামড়া পুঁতে ফেলা হয়েছে

বাসস্ট্যান্ডে পড়ে থাকা চামড়াগুলো পরে পুঁতে ফেলা হয়

মৌলভীবাজার জেলায় এবার অধিকাংশই কোরবানির পশুর চামড়ার ক্রেতা পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে ঈদের পরের দিন চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন কোরবানিদাতারা। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চামড়া বিক্রি করতে না পারায় সৃষ্টি হয়েছে নানা বিড়ম্বনার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মৌলভীবাজার যুগিডহর এলাকায় পৌর বাস টার্মিনালে ঈদের দিন দুপুর থেকে কোরবানির চামড়া নিয়ে আসেন অনেক কোরবানিদাতা। সারাদিন অপেক্ষা করে কোনও ক্রেতা না পাওয়াতে চামড়াগুলো বাস টার্মিনালে ফেলে চলে যান তারা। ঈদের পরের দিন চামড়ায় পচন ধরা শুরু করলে পৌরসভার মেয়র মো. ফজলুর রহমান পরিচ্ছন্নতা-কর্মী দিয়ে মাটিতে গর্ত করে চামড়াগুলো পুঁতে ফেলেন।

পৌরমেয়র মো.ফজলুর রহমান বলেন, ‘পৌর বাস টার্মিনালে কোনও ক্রেতা-বিক্রেতা না পাওয়াতে বাধ্য হয়ে মনু নদীর পার ও পৌরসভার ডাম্বিং এলাকার মাটিতে গর্ত করে কয়েকশ’ গরু ও খাসির চামড়া পুঁতে ফেলা হয়েছে।’ এই সংখ্যা সব মিলিয়ে প্রায় সাতশ’-আটশ’ হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার শহর, শহরতলী ও বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগে কোরবানির চামড়া কিনতে বাসা বাড়িতে ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো। এবছর কোরবানির চামড়া কিনতে ক্রেতাদের মুখই দেখা যায়নি। যা-ও এক-দুজন ক্রেতার দেখা মিলেছে, তাদের কাছে নিম্নে ২০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ দেড় দুই লাখ টাকা দামের কোরবানির পশুর চামড়া ২০ টাকা থেকে ১০০-১৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

এভাবেই পড়ে ছিল চামড়া

শ্রীমঙ্গল চিড়িয়াখানা রুপুস এলাকার বাসিন্দা সুমি বেগম, ফখরুল ইসলাম ও জালালিয়া রোডের বাসিন্দা মো. শাহেদ আহমদ বলেন, ‘গত এক যুগের মধ্যে চামড়ার বাজারে এ ধরনের ধস আর কখনও দেখা যায়নি। এসব চামড়া বিক্রির টাকা তো ফকির মিসকিনদের হক। শহরে কোরবানি দেওয়া গরুর চামড়া কোনোমতে বিক্রি করতে  পারলেও বুধবার গ্রামে কোরবানি দেওয়া দুটি গরুর চামড়া বিক্রি করতে না পারায় বৃহস্পতিবার মাটিতে পুঁতে দিয়েছি।’  

শ্রীমঙ্গল উপজেলার শহরতলির সিঁন্দুরখান সড়কে অবস্থিত জামেয়া ইসলামিয়া বালক বালিকা টাইটেল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুস শাকুর বলেন, ‘কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রাহকদের কাছে ৪৫টি চামড়া ১৫০ টাকা করে বিক্রি করা হয়েছে এবং আরও ৩৫টি চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বুধবার মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাইটুলা ইসলামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ এহসানুল হক জানান, তার মাদ্রাসায় ২৩টি চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে ফেলেন।

মৌলভীবাজার জেলার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী মো. সুহেল আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ছাগলের চামড়া ২০ টাকা ও গরু চামড়া ১০০ টাকায় ক্রয় করেছি। কারণ লবণের দাম বেশি থাকায় বাজার মন্দা। আমরা চামড়া ক্রয় করতে আগ্রহী না। তারপরও কয়েক লাখ টাকার চমড়া কিনেছি।’

All rights and copyright belongs to author:
Themes
ICO