Bangladesh
This article was added by the user . TheWorldNews is not responsible for the content of the platform.

ময়মনসিংহ শহরের ভেতরেই রেলক্রসিং: প্রতিদিন ৮ ঘন্টা যানজট

Mymensing news
Mymensing news

কামরুজ্জামান মিন্টু, স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মনসিংহে রেলক্রসিং এখন কাটায় পরিণত হয়েছে। নগরের ভেতরে অবস্থিত ১০টি রেলক্রসিংয়ের কারণে প্রতিদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে নগরবাসীসহ নাগরিক আন্দোলনের নেতারা এ-সব রেলক্রসিংগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুললেও কার্যত ফলাফল শূন্য।

ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নগরের কেওয়াটখালী থেকে গুমটি পর্যন্ত এ ১০টি রেলক্রসিংয়ের অবস্থান। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এসব ক্রসিং পার হয়ে ২৬টি ট্রেন মোট ৪৭ বার চলাচল করে। প্রতিবার ট্রেন পার হওয়ার অন্তত পাঁচ মিনিট আগে সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। সড়ক বন্ধ থাকার সময় দুই পাশে যত্রতত্রভাবে বিভিন্ন যানবাহন দাঁড়িয়ে যায়। এতে ন্যূনতম ১০ মিনিট যানজটের সৃষ্টি হয়।

এ হিসেবে ১০টি রেলক্রসিংয়ে যানজটে পড়ে প্রতিদিন ৪৭০ মিনিট সময় ব্যয় হয়। যা প্রায় ৮ ঘণ্টার সমান। তবুও নিরুপায় হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় যানজটে ব্যায় করতে বাধ্য হচ্ছে সবাই।

নগরবাসী জানান, রেলক্রসিংগুলোর কারনে সময়ের কাজ সময়ে করা যাচ্ছে না। দিনের বেশির ভাগ সময় লেগে থাকে যানজট। ফলে সবাই বিরক্তিকর অবস্থার মধ্যে বসবাস করছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এসব রেলক্রসিংগুলো নগরের বাহিরে নেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা।

কেওয়াটখালী এলাকার বাসিন্দা আহম্মেদ হোসেন নামে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, আমার বাসা থেকে দশ মিনিট পর রেলক্রসিংয়ের অবস্থান। খাদ্য পণ্যের ডিলারশীপে মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে কাজ করি। প্রতিদিন সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় রেলক্রসিংয়ে আটকে থাকতে হয়। ট্রেন চলে গেলেও তীব্র যানজটের কারনে দশ থেকে পনেরো মিনিটের ভোগান্তি নিয়মিত। এতে করে প্রতিদিন বিড়ম্বনায় পড়ছি।

একই এলাকার বয়োবৃদ্ধ আফসর আলী বলেন, আমাদের দুর্ভোগের কথা কেউ চিন্তা করেনা। সম্প্রতি কেওয়াটখালী হয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক প্রসূতি নারীকে ভর্তির জন্য সিএনজি করে নিয়ে যাচ্ছিল তার পরিবার। কিন্তু এই রেলক্রসিং পর্যন্ত আসতেই ট্রেনের কারনে অন্তত পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। ট্রেন চলে যাওয়া পর যানজটের কারনে ওই নারীর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। যানজট কমলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে, তিনি বেচে আছেন কিনা, তা সন্ধিহান।

জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমীন কালাম সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, নগরের ভেতরে রেলক্রসিংয়ের কারনে তীব্র যানজটে মানুষ অতিষ্ঠ। বিভাগীয় শহরে এমন জনদুর্ভোগ অপ্রত্যাশিত। আশা করছি রেলমন্রণালয় রেলক্রসিংয়গুলো নগরের বাইয়ে স্থাপন করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবেন।

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, গত ৯ নভেম্বর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে রাম কৃষ্ণ মিশন রোডে যাচ্ছিলাম। নতুন বাজার রেলক্রসিংয়ের সামনে আসা মাত্রই ২০ মিনিট যানজটে আটকে যাই। এমন অবস্থা খুবই বিরক্তিকর।

তিনি বলেন, নগরীর ভেতর দিয়ে চলা রেললাইনটি নগীর দক্ষিণ দিকে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে এই ভোগান্তির কোনো সমাধান নেই।

ময়মনসিংহ ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক (প্রশাসন) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, নগরের ভেতরের সবগুলো সড়ক অপ্রশস্ত। এর মধ্যে রেলক্রসিংগুলোও নগরের ভেতরে। ময়মনসিংহ বিভাগ ঘোষণার পর থেকেই মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধুমাত্র ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে যানজট নিরসন করা যাচ্ছে না। এজন্য অন্যত্র  রেলক্রসিং সরিয়ে নিতে হবে।

এ বিষয়ে রেলওয়ের ময়মনসিংহের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নারায়ণ প্রসাদ সরকার বলেন, আমরা জানি রেলক্রসিংয়ের কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে, এসব রেলক্রসিং সরানো অনেক কঠিন বিষয়। একমাত্র রেল মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলেই দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান হবে।