logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo logo
star Bookmark: Tag Tag Tag Tag Tag
Bangladesh

নাঈমের ইনিংসটাকে হারের হতাশায় ডোবাল বাংলাদেশ দল

দুর্দান্ত ইনিংস খেলেও হারতে হলো নাইমকে। ছবি: এএফপি

রোগটা পুরোনো, নতুন কিছু নয়। জোড়ায় জোড়ায় আউট হওয়ার রোগ। সে রোগটা এমন এক ম্যাচেই ফিরে আসবে সেটা কে জানত? ভারতের দেওয়া ১৭৫ রানের লক্ষ্য ছুঁতে গিয়ে জোড়ায় জোড়ায় উইকেট হারিয়ে হাত থেকে জয়টা ছুড়ে দিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। অনায়াস জয় দেখতে থাকা এক ম্যাচেও ৩৩ রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ।

শুরুটা লিটন ও সৌম্যকে দিয়ে। দীপক চাহারকে বিশ্বমানের এক স্পেল উপহার দেওয়ার পেছনে মূল অবদান এ দুজনের। তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলটা মাঠের যে কোনো প্রান্তে পাঠানো যেত। লিটন ওয়াশিংটন সুন্দরের কাছেই পাঠালেন। পরের বলেই আউট সৌম্যও। ৯৮ রানের জুটি গড়া মিঠুন আউট হলেন ১৩তম ওভারের শেষ বলে। ওই চাহারের বলেই। পরের বল অর্থাৎ চতুর্দশ ওভারের প্রথম বলেই শিভাম দুবের বলকে স্টাম্পে টেনে আনলেন মুশফিক। তলানিতে পড়ে থাকা আত্মবিশ্বাস সঙ্গে সঙ্গে আকাশে উঠল দুবের।

সে আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ পেল ১৬তম ওভারে। অসাধারণ এক ইনিংস খেলা নাঈমকে দিনের সেরা বলটায় বোল্ড করলেন দুবে। ঠিক পরের বলেই দুবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে এলেন আফিফ। প্রথম ৯ বলে ২১ রান দেওয়া দুবেই কিনা স্পেল শেষ করলেন ৩০ রান দিয়ে, সঙ্গে ৩ উইকেট! মাহমুদউল্লাহ আউট হয়েছেন পরের ওভারের পঞ্চম বলে। লেগ স্পিন খেলতে না পারার কথা আরেকবার স্বীকার করে বোল্ড হয়েছেন অধিনায়ক। পরের বলেই জোড়ার নিয়মে হাটতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জোরালো শটটা হাতে রাখতে পারেননি চাহাল। শেষ দুই উইকেটও পড়েছে টানা দুই বলে! যা দিয়ে দীপক চাহারের ইতিহাসও হয়ে গেল। প্রথম ভারতীয় হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিক হলো কারও।

অথচ জয়ের কতটাই না কাছে ছিল বাংলাদেশ। যে উইকেটে অন্যরা রান তুলতে হাপিত্যেশ করছেন, সেখানে অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলেছেন মোহাম্মদ নাঈম। ১২ রানে দুই উইকেটের পতনের পর তৃতীয় উইকেটে এসেছে ৯৮ রান। এর কৃতিত্ব মিঠুন নিতে পারবেন না। টি-টোয়েন্টিতে ২৯ বলে ২৭ রানের ইনিংস খেলে সেটা সম্ভব নয়। তবু বাংলাদেশ যে শেষ ৮ ওভারে মাত্র ৬৯ রামের দূরত্বে ছিল, তার কারণ ওই নাঈম। নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক সিরিজ। আগের দুই ম্যাচে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে পারেননি। আর কঠিন এক উইকেটে খেলা। অন্য প্রান্তে লিটন-সৌম্যের আত্মহত্যা। এমন অবস্থায় কী ইনিংসটাই না খেললেন।

প্রথম ৫ ওভারে মাত্র ১৮ রান এসেছিল। বাংলাদেশকে তখনই পরাজিতের কাতারে ফেলে দেওয়া যাচ্ছিল। নাইমের লড়াই শুরু হলো ষষ্ঠ ওভারে। যুজবেন্দ্র চাহালের প্রথম তিন বলেই চার। দুবেকেও বোলিংয়ে আমন্ত্রণ জানালেন টানা দুই চার মেরে। ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে আগের দুই ম্যাচে অস্বস্তিতে ছিলেন। সেটা যে আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাত্রই খেলার চাপে, সেটাও বুঝিয়ে দিলেন আজ। অসাধারণ এক শটে মাথার ওপর দিয়ে তুলে মেরে। একটু পর চাহাল ফিরে এসে আবারও বেদম মারের শিকার এক ছক্কায় দিলেন ১৫ রান। ৩ ওভার শেষে চাহালের নামের পাশে ৩৮ রান!

১২ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১০৬। অর্থাৎ ৭ ওভারেই ৮৮ রান এসেছে। মোহাম্মদ মিঠুনের ওয়ানডে স্টাইলের ব্যাটিং যে এতে কোনো অবদান রাখেনি সেটা তো আগেই বলা হয়েছে। এর পর বাংলাদেশের জয়টাই ছিল অবশ্যম্ভাবী। একদিকে আজ একজন বোলার কম নিয়ে নেমেছে ভারত। দুবের আত্মবিশ্বাসহীনতা, খলিলের রানবন্যা আর শিশিরে ভেজা বলে চাহালের গ্রিপ করতে না পারা মিলিয়ে বিপাকে ছিল ভারত। শেষ ৮ ওভারে মাত্র ৬৯ রান দরকার ছিল।

১৩তম ওভারে দীপক চাহার এসে মোড় ঘোরালেন। বেশ কয়েকটি ডট বল খেলে চাপ সৃষ্টি করে শেষ বলে আউট হয়ে গেলেন মিঠুন। পরের ওভারে মুশফিকও তাই। মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে এগোনোর আশা দেখিয়ে নাঈমও ফিরলেন দুবের সেরা বলটাতে। ১০ চার ও ২ ছক্কায় ৪৮ বলে ৮১ রান করে তবু নাইম নিজের সর্বোচ্চটাই দিয়েছেন। বাকি দল মিলে যে তার অর্ধেকটাই করতে পারল না। মিঠুনের ২৭ রানের পর তৃতীয় সর্বোচ্চ ৯! ৩৯ বল ও ৩৪ রানের মাঝে ৮ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।

এর মাঝেই ১৮তম ওভারের শেষ বলে চাহারের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন শফিউল। ২০তম ওভারের প্রথম দুই বলে মোস্তাফিজ ও আমিনুলও বিদায় নিয়ে ভারতকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম হ্যাটট্রিকের স্বাদ দিয়েছেন। আর ২০ বলের স্পেলে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিংয়ের মালিক হয়ে গেছেন চাহার।

Themes
ICO