Bangladesh

রোহিঙ্গাদের ভাসানচর যাত্রা

সব আলোচনা-সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হলো বাংলাদেশে আশ্রিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ভাসানচর যাত্রা। গতকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের ৩৪টি ক্যাম্প থেকে নোয়াখালীর ওই চরটিতে রোহিঙ্গাদের পাঠানোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। প্রথম দিন ৬ শতাধিক পরিবারের ২৭শ রোহিঙ্গা ভাসানচরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। আজ আরও সাড়ে ৩ হাজার রোহিঙ্গাকে সেখানে নেওয়া হবে। সূত্রের খবর, এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের এ স্থানান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

এদিকে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর কার্যক্রম শুরুর দিন জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কঠোর সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ সরকার। এ দুটি আন্তর্জাতিক মোর্চা শুরু থেকেই ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরে বাংলাদেশের গৃহীত সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছিল। বিশ্লেষকরাও বলছেন, জাতিসংঘ সার্বিক অর্থেই একটি ব্যর্থ সংগঠন। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরাতে জাতিসংঘের ব্যর্থতা এবং এর পরও এ নিয়ে নাক গলানোর প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করছেন তারা। রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে জাতিসংঘ ও ইইউর পথেই হাঁটছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠন দুটি এ স্থানাস্তর কার্যক্রম বন্ধের

আহ্বান জানিয়েছে। যথারীতি এ দুটি সংগঠনও এখন বিশ্লেষকদের তীব্র বাক্যবাণে জর্জরিত।

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উখিয়া কলেজ মাঠের অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে প্রথম পর্যায়ে ১০টি বাস রোহিঙ্গাদের নিয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার উদ্দেশে রওনা হয়। পরবর্তী ৪টি বহরে আরও ৪০টি বাসসহ মোট ৫০টি বাস ২৭শ রোহিঙ্গাকে নিয়ে চট্টগ্রাম পৌঁছায়। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে তাদের ভাসানচরে নিয়ে যেতে ১৪টি জাহাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের প্রথমে তাদের নিজ নিজ ক্যাম্প থেকে ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে উখিয়া কলেজ মাঠে নিয়ে আসা হয়। এখানে তাঁবু ও বুথ ছিল প্রস্তুত, প্রস্তুত ছিল একদল কর্মীও। তারা রোহিঙ্গাদের শৃঙ্খলার সঙ্গে খাবার পরিবেশন করেন। পরে তাদের ডেটা এন্ট্রি করে বাসে তোলা হয়। রোহিঙ্গাদের বহনের জন্য শতাধিক বাস এবং ৪০টি মালাবাহী কাভার্ডভ্যানসহ ট্রাক ও অন্যান্য গাড়িও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

২৩নং ক্যাম্পের মাঝি আবুল হাশেম বলেন, ভাসানচরে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের তরফে কোনো রকম জোর প্রয়োগ করা হচ্ছে না। স্বেচ্ছায় যারা যেতে চাইছেন, শুধু তাদেরই সেখানে পাঠানো হচ্ছে।

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক খোরশেদ আলম খান বলেন, ভাসনচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের সব প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। রোহিঙ্গারা ভাসনচরে পৌঁছালে নৌবাহিনী ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে তাদের অভ্যর্থনা জানানো হবে।

সমাজকল্যাণ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জেসমিন প্রেমা জানান, শুধু আগ্রহী রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের কাজ করছে সরকার ও ২২টি উন্নয়ন সংস্থা। এ বিষয়ে অর্গানাইজড হয়ে কাজ করছে সরকার। এসব রোহিঙ্গার জাহাজে ওঠার পূর্বে বিভিন্ন ডেটা এন্ট্রি সাপেক্ষে বরাদ্দকৃত আশ্রয়ণের টোকেন ও চাবি হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।

প্রেমা আরও বলেন, দ্বীপটি বাসস্থানের উপযোগী করা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বনায়ন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে। সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য আধুনিক বাসস্থান ছাড়াও বেসামরিক প্রশাসনের ও আবাসিক ভবন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ভবন, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও খেলার মাঠ গড়ে তোলা হয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকা- পরিচালনার জন্য সেখানে মহিষ, ভেড়া, হাঁস, কবুতর পালন করা হচ্ছে। আবাদ করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। পরীক্ষামূলকভাবে ধান চাষও করা হচ্ছে। প্রকল্পটিতে যেন এক লাখ এক হাজার ৩৬০ জন শরণার্থী বসবাস করতে পারেন সে লক্ষ্যে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়েছে। ১২০টি গুচ্ছগ্রামে ঘরের সংখ্যা এক হাজার ৪৪০টি। রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবায় দুটি ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল এবং চারটি কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরি করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রতি ১০টি বাসের বহরে ১টি অ্যাম্বুলেন্স ও ১টি করে পুলিশের গাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক র‌্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও আছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে শুধু নিরাপত্তার দায়িত্বটুকু আমরা পালন করছি। বাকি বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।

কত সংখ্যক রোহিঙ্গা পরিবার ভাসানচরে যাচ্ছে? দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে এ সম্পর্কে যথাযথ তথ্য-পরিসংখ্যান জানানো হয়নি। তবে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে সরকারের আয়োজনের ব্যাপকতা এবং তাদের জন্য দেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়ার মতো।

ইতোপূর্বে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর কার্যক্রমকে সামনে রেখে বঙ্গোপসাগরের এ দ্বীপটি পর্যবেক্ষণ করে আসে ২২টি এনজিওর একটি প্রতিনিধি দল। এ ছাড়া গত ৫ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধি দলকে ভাসানচরের সার্বিক অবস্থা দেখার জন্য সেখানে পাঠানো হয়। তারা ফেরার পর রোহিঙ্গাদের একাংশ ভাসানচরে স্থানান্তরে আগ্রহী হয় বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে।

ব্যর্থ জাতিসংঘের আপত্তি অযৌক্তিক : বাংলাদেশ

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরে প্রথম থেকে বিরোধিতা করে আসা জাতিসংঘ ও ইইউর কড়া সমালোচনা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের থাকার পরিবেশ তৈরিতে ব্যর্থ জাতিসংঘ। তাই ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে তাদের আপত্তি অযৌক্তিক। তিনি আরও বলেন, তিন বছর ধরে মিয়ানমারকে এ বিষয়ে বোঝাতে ব্যর্থ জাতিসংঘের মুখে এমন কিছু মানায় না।

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানাস্তর কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানানো হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তীব্র সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, শরণার্থী শিবির হিসেবে বিশ্বের সব থেকে উন্নত জীবন পাবে ভাসানচরের রোহিঙ্গা। এসব মানবাধিকার সংগঠনের উচিত তাদের দেশে নিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের। আর জাতিসংঘ একটি ব্যর্থ সংগঠন। আজ পর্যন্ত জাতিসংঘ কোনো যুদ্ধ থামাতে পারেনি। তারা মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে না বলে ভাসানচরে স্থানান্তর করতে বাধা দিচ্ছে। কারণ সেখানে তাদের ভোগবিলাসে কমতি পড়বে। আর ইইউর উচিত হবে, তাদের দেশগুলোতে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাওয়া এবং আরও উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ দেওয়া। তারা মিয়ানমারকে কিছুই বলছে না। বরং দেশটির সঙ্গে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসাও করছে।

স্থানান্তর কার্যক্রমে সম্পৃক্ত না করায় ক্ষুব্ধ জাতিসংঘ

গত বুধবার জাতিসংঘ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অনেক আগেই ভাসানচরের সার্বিক মূল্যায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয় সরকারকে। তবুও এই প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। সরকারের অনুমতি পেলে মূল্যায়নের জন্য ভাসানচর যেতে চায় জাতিসংঘ। বিবৃতিতে ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তরে জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত না করার অভিযোগে ক্ষোভ জানানো হয়।

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য ৩১শ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২০টি গুচ্ছগ্রাম

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ও তার বাইরে অবস্থান নিয়ে থাকা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ে নানা সামাজিক সমস্যা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে দুই বছর আগে তাদের একটি অংশকে হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৩১শ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করে লক্ষাধিক মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে আগেই ভাসানচরে পাঠানো হয়েছে।

Football news:

Tuchel devoted a lot of time to tactics and talked to all the Chelsea players at the first training session
Ibrahimovic after clash with Lukaku: In the world of Zlatan, there is no place for racism
Milan defender Musacchio has passed a medical in Lazio
Arsenal is a big club in England. Ødegård fit into the role of the tens of Arteta. Holand on Martin
Klopp on Lampard's resignation: Abramovich is not the most patient man in the world. It is cruel to make this decision so early
Berbatov on Suarez: Barcelona showed disrespect and pays for it. Luis must be dying of laughter
In the environment of Messi deny that the player and his family members learn French