Bangladesh

সক্ষমতার অর্ধেক নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে

করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য দেশে ৭১টি ল্যাবরেটরি ও বর্তমান লোকবলে যে সক্ষমতা রয়েছে, তার অর্ধেক নুমনাও পরীক্ষা করা হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব ল্যাবে প্রতিদিন ২৭-৩০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু গড়ে ১৫ হাজারের বেশি পরীক্ষা হচ্ছে না। পর্যাপ্ত পরীক্ষার অভাবে আক্রান্তদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। ফলে সংক্রমণ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনা নমুনা পরীক্ষার জন্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মাত্র একটি ল্যাবরেটরি ছিল। এ নিয়ে নানা সমালোচনার পর ল্যাব বাড়াতে থাকে। এখন এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১-এ। তবে এ ল্যাবও পর্যাপ্ত নয়। দেশের ৪৪ জেলায় পরীক্ষার জন্য কোনো ল্যাবরেটরি নেই। ৩৭টি ল্যাব ঢাকায়। রাজধানীর বাইরের ১৯ জেলা রয়েছে ৩৪টি ল্যাব। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ছয়টি। এ ছাড়া নোয়াখালী, রাজশাহী, বগুড়া, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে দুটি করে ল্যাব রয়েছে।

গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ১৬ হাজারের মতো নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। ১৪ হাজার ৭২৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। এর আগের দিন ১৪ হাজার ৪৫০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ১৬ হাজার ৩৬২ জনের নমুনা পরীক্ষার খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার ১৭ হাজার ৮৭৫, মঙ্গলবার ১৮ হাজার ৪২৬ ও সোমবার ১৭ হাজার ৮৩৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

অথচ এই সময়ে প্রতিদিন ৩০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা উচিত বলে মত দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনা মোকাবিলায় গঠিত সরকারের জাতীয় কারিগরি পরমার্শক কমিটিও বলেছে, অন্তত ২০ হাজার পরীক্ষা করতে হবে। সেই সক্ষমতাও রয়েছে। তার পরও পরীক্ষা হচ্ছে না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও করোনায় গঠিত কারিগরি পরামর্শ কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, অন্তত ২০ হাজার পরীক্ষা করা হলে কী পরিমাণ সংক্রমিত হচ্ছে তা ধারণা করা যেত। কিন্তু তা তো হচ্ছে না। প্রতিদিন ল্যাবরেটরি বাড়ানো হলেও সক্ষমতা বিষয়ে কিছু বলা হচ্ছে না। বরং গত দুদিনে করেই নমুনা পরীক্ষা কমেছে।

জানা গেছে, কিট সংকটের কারণে বুথগুলোকে নমুনা সংগ্রহ কমাতে বলা হয়েছে। কোথাও কোথাও একটি কিট দিয়ে দুটি পরীক্ষাও করানো হচ্ছে। ফলে ভুল রিপোর্ট আসার সম্ভাবনা রয়েছেÑ বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। এ ছাড়া নমুনা পরীক্ষায় ফি নির্ধারণ করায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে পরীক্ষার ব্যাপারে অনীহা বেড়েছে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক পরিচালিত ৫৪টি বুথে নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ১০১টি বুথ স্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু কিট সংকটের কারণে বাকি বুথগুলো তারা স্থাপন করতে পারছে না। বরং কিছু বুথে নমুনা সংগ্রহের পরিমাণ আগের চেয়ে কমেছে। আগে প্রতি বুথে ৩০টি করে নমুনা সংগ্রহ করা হতো। এখন তা কমে হয়েছে ১৫-২০টি।

সংক্রমণের ধারা বিবেচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, একজন রোগী শনাক্ত করতে যদি ১০-৩০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা যায়, তা হলে পরীক্ষা পর্যাপ্ত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত একজন রোগী শনাক্তে ৫ দশমিক ২৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। অথচ গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নমুনা সংগ্রহের সংখ্যা কমানো হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও বুথে করোনা পরীক্ষার জন্য অসংখ্য রোগী ভিড় করলেও গত কয়েক দিন ধরে সবার নমুনা নেওয়া হচ্ছে না। নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার সঙ্গে জড়িতরা জানিয়েছেন, এখন নমুনা সংগ্রহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর একেবারে প্রয়োজন ছাড়া, উপসর্গহীন ব্যক্তিদের পরীক্ষা করা হচ্ছে না। আগে যেসব প্রতিষ্ঠানে ৩০০-এর মতো নমুনা সংগ্রহ করা হতো এখন তা ১৫০ কিংবা ১৮০-তে এসে নেমেছে।

অবশ্য গত কিছু দিন ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলে আসছেন, কিটের কোনো অভাব নেই এবং পরীক্ষাগারগুলোয় প্রয়োজনীয়সংখ্যক কিট সরবরাহ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার চাইলে আরও ল্যাব বাড়াতে পারে। সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর পরিকল্পনা করলেও এতদিনে প্রতি জেলায় একটি করে ল্যাব থাকত। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্তাব্যক্তিরা কী করছেন তা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে যে সমন্বয়হীনতার রয়েছে তা তো স্পষ্ট।

ল্যাবসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৭১ ল্যাবের মধ্যে অন্তত সাতটি ল্যাবে দুটি করে পিসিআর মেশিন আছে। বাকি ৬৪ ল্যাবে একটি করে পিসিআর মেশিন। আর ঢাকার ন্যাশনাল রেফারেন্স ল্যাবে চারটি পিসিআর মেশিন আছে। প্রত্যেকটি মেশিন দিয়ে দুই শিফটে কমপক্ষে ৩০০টি নমুনা পরীক্ষা করা যায়। এ জন্য নতুন লোকবলও দরকার হবে না। আর যদি আরও বেশি পরীক্ষা করাতে চায়, তা হলে লোকবল বাড়াতে হবে। তারা বলেন, এসব ল্যাবের ৩৫ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার হচ্ছে না।

প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, এখনো কোথাও একটি লুকোচুরির বিষয় আছে। নইলে এতগুলো ল্যাবে আরও অনেক বেশি পরীক্ষা হওয়া উচিত। শোনা যাচ্ছে, কিটের স্বপ্লতা আছে। অথবা অনেক ল্যাব নামে আছে, কিন্তু কাজ হচ্ছে না এমনও হতে পারে।

মিজান

Football news:

Maurizio Sarri: Juve are happy to have won perhaps the most difficult championship in the history of Serie A
Aubameyang is close to extending his contract with Arsenal until 2023
Rodri: Hazard is one of the best players in the world
We hit the Manchester United check for Alexis Sanchez: one goal – 11 million euros, a minute of playing time-20 thousand
Pep Guardiola: if Manchester City want to win the Champions League, they need to improve their defensive performance
The Premier League clubs voted against 5 substitutions next season
City has fought back from UEFA and is ready to update: Pep has 300 million on transfers, Ferran Torres and ake have already been taken, and Coulibaly is on the way